প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করার পর থেকেই দাবি করছেন যে, তিনি তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট করতে চান। কিন্তু তার জোটে কে কে শামিল হতে চান, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিলো। ইতিমধ্যেই মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হুমায়ুনবাবু। তবে পাকাপাকি ভাবে যে সিপিএম তার সঙ্গে জোটে যাচ্ছে, এই রকম খবর সামনে আসেনি। বামেদের সঙ্গে যে কংগ্রেসের এবার জোট হচ্ছে না, তাও এক কথায় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আইএসএফ কি করবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। আর এসবের মধ্যেই হুমায়ুন কবীর অবশ্য বলে দিয়েছেন, যদি বাম তাদের সঙ্গে জোটে না আসে, তাহলে তিনি সময় অনুযায়ী তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবেন। আর এসবের মধ্যেই গতকাল যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মল্লিকবাজারে হয়ে গেল, তার পরেই প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কি এবার বড় কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতিতে? জোট সমীকরণ নয়া মাত্রা পাবে পশ্চিমবঙ্গে?
এই রাজ্যে তৃণমূলকে জেতানোর ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের ভোট যে একটা বড় ফ্যাক্টর, তা প্রত্যেকেই জানেন। তবে হিন্দু ভোটকে একত্রিত করার কাজ করছে বিজেপি। আর এসবের মধ্যেই হুমায়ুন কবীর যেভাবে নতুন দল গঠন করেছেন, তাতে তিনি কোনো রননীতি সাজাবেন, তা নিয়েও চর্চা চলছে। বাম নেতৃত্ব এবং আইএসএফের সঙ্গে তিনি জোট করার ব্যাপারে কথা বলেছেন। কিন্তু সেই জোট যে হচ্ছেই, এরকম কোনো চূড়ান্ত খবর সামনে আসেনি। তবে এই পর্যায়ে বসে থাকতে আর অবশ্যই রাজি নন হুমায়ুনবাবু। তিনি কি নিজের পরবর্তী কৌশল তৈরি করে নিয়ে ফেলেছেন? আর সেই জন্যই কি জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে মিম সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের বৈঠক হয়ে গেল?
সূত্রের খবর, রবিবার মল্লিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার দলীয় কার্যালয়ে হয় এই বৈঠক। যে বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি, মিম সহ আরো একাধিক দল উপস্থিত ছিলো। আর এই খবর সামনে আসার পরেই প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কি হুমায়ুনবাবু এবার মিম সহ বাকি দলগুলির সঙ্গে জোট করতে চলেছে? এক্ষেত্রে বামেদের জন্য তিনি এত কাল অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সেদিক থেকে কোনো সবুজ সংকেত না আসার কারণেই কি সংখ্যালঘু ভোটের পুরোটাই নিজেদের দখলে নিতে তার এই স্ট্রাটেজি? তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। তবে এই বৈঠকের পর গোটা ঘটনার গতি প্রকৃতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
