প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই বাংলার রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার নিউ টাউনের এক অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের গত ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘ব্যর্থতা ও দুর্নীতির সময়কাল’ হিসেবে অভিহিত করে একটি বিশেষ শ্বেতপত্র বা ‘জনগণের চার্জশিট’ (People’s Chargesheet) উন্মোচন করলেন তিনি। প্রায় ৪০ পাতার এই বিস্ফোরক নথিতে তৃণমূল সরকারের আমলের একাধিক কেলেঙ্কারি ও প্রশাসনিক অদক্ষতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা শাসক শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে তৈরি এই চার্জশিটে মূলত ১৪টি প্রধান ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রকাশিত এই নথিতে উঠে এসেছে:
নিয়োগ দুর্নীতি: শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরসভার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ও হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর বঞ্চনার কথা।
আর্থিক কেলেঙ্কারি: রেশন বণ্টন, কয়লা ও বালি পাচারের মতো ঘটনায় শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের যোগসাজশের দাবি।
নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা: সন্দেশখালির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অভিযোগনামা।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনা: আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে কেন সঠিক রূপায়ণ হয়নি, তার কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।
মঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শমীক ভট্টাচার্যের দক্ষ সাংগঠনিক নেতৃত্বে এই চার্জশিট এবার বাংলার প্রতিটি বুথে এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মানুষের দুয়ারে যাওয়ার এই কৌশল শাসকদল তৃণমূলকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানান, এই চার্জশিট কেবল রাজনৈতিক অভিযোগ নয়, বরং বাংলার সাধারণ মানুষের বঞ্চনার দালিলিক প্রমাণ। তিনি বলেন, “পনেরো বছর ধরে উন্নয়নের নামে যা হয়েছে, তার খতিয়ান এই চার্জশিটে আছে। বাংলার মানুষ আর এই অপশাসন সহ্য করবেন না।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশের আগেই এই ‘জনগণের চার্জশিট’ হবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রধান প্রচার অস্ত্র।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই নথিতে দেওয়া প্রতিটি তথ্য তথ্যসূত্রসহ সাজানো হয়েছে। যেভাবে শাহ-শমীক-শুভেন্দু জুটি দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন, তাতে নবান্নের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ পড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই চার্জশিট নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এখন দেখার, এই ‘চার্জশিট’ বাংলার ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।
