Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শাহ-শুভেন্দুর মিছিলে তৃণমূলী অভব্যতা রুখতে ব্যর্থ! লালবাজারের কোপে ২ ডিসি, রেয়াত করল না সদর দপ্তর!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে গতকাল দক্ষিণ কলকাতার রাজপথ সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন স্পর্ধার। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঐতিহাসিক মনোনয়ন মিছিল, আর অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির তৃণমূলী ছক। অভিযোগ, খোদ শাহ-শুভেন্দুর উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীরা অভব্য আচরণ ও উস্কানিমূলক স্লোগান দিলেও কার্যত ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। কিন্তু সেই গাফিলতি এবার বুমেরাং হয়ে ফিরল প্রশাসনের অন্দরেই। পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে কলকাতা পুলিশের দুই হেভিওয়েট ডেপুটি কমিশনারকে (ডিসি) শোকজ করল লালবাজার। কর্তব্যে অবহেলা করলে যে কোনো ‘রেয়াত’ করা হবে না, এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাইল সদর দপ্তর।

গতকাল শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশ ছিল এক বিশাল জনসমুদ্র। কিন্তু হাজরা মোড় থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সংযোগস্থলে আসতেই দেখা যায় তৃণমূলের উস্কানিমূলক জমায়েত। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়কে তোয়াক্কা না করেই তৃণমূল কর্মীরা কুৎসিত স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পুলিশ যদি প্রথম থেকেই সক্রিয় থাকত, তবে তৃণমূলীদের এই ঔদ্ধত্য দেখা যেত না। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই স্পর্শকাতর মোড়ে মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্তারা ছিলেন নীরব দর্শক।

এই চরম বিশৃঙ্খলার পর নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে লালবাজার। তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের জমায়েতকে বাগে আনা গেল না এবং কেন অমিত শাহের মত ভিভিআইপি-র যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটল। মনোনয়ন কেন্দ্রের সামনে জমায়েত সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় সেখানকার দায়িত্বে থাকা ১ জন ডিসিকে শোকজ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার মুখে দাঁড়িয়ে যারা তৃণমূলী অভব্যতা আটকাতে পারেননি, সেই জোনে দায়িত্বরত আরও ১ জন ডিসির কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়া মানেই কেন্দ্রের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা যাওয়া। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শুভেন্দুর জনপ্রিয়তায় শাসকদল যে কতটা দিশেহারা, তা গতকালের তৃণমূলী বিশৃঙ্খলাতেই স্পষ্ট। আর সেই বিশৃঙ্খলা যারা প্রশ্রয় দিয়েছে বা রুখতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে এখন ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে চাইছে লালবাজার। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ২০২৬-এর আগে পুলিশের অন্দরেও ‘শুদ্ধিকরণ’ শুরু হলো?

শুভেন্দুর ‘পাওয়ার শো’-তে তৃণমূলী কাঁটা উপড়ে ফেলতে না পারার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে খোদ পুলিশ কর্তাদের। লালবাজারের এই শোকজ প্রমাণ করে দিল যে, শাহ-শুভেন্দুর হুঙ্কারে খোদ প্রশাসনও এখন পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। এখন দেখার, এই শোকজ নোটিশের জবাবে ওই দুই অফিসার কী অজুহাত খাড়া করেন।

Exit mobile version