প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন। উনিশ শতকের বাংলায় পরাধীনতার অন্ধকার ফুঁড়ে যে মহামন্ত্র কোটি কোটি ভারতবাসীর ধমনীতে তৈরি করেছিল তীব্র ‘রক্তনাচন’, সেই ‘বন্দে মাতরম’ গানের এবার ১৫০ বছর পূর্তি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কালজয়ী সৃষ্টির সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে দেশজুড়ে এক মহাযজ্ঞের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। আজ বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বড় ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে এই নিয়ম লাগু হতে চলেছে। আর সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সরাসরি বাংলার মাটি থেকে কড়া বার্তা দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আগামী সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকার-পোষিত স্কুলে প্রতিদিন সকালে প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক শাখা থেকে নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত স্কুলের প্রধানদের এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিতে ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিত হবে।
শুভেন্দুর সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ এবং বিজ্ঞপ্তি জারির সিদ্ধান্তকে দলের পক্ষ থেকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বঙ্কিম-স্মরণ করে বলেন, “ভারতবর্ষের অস্মিতা, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, গৌরবময় অতীতের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দেওয়া ‘বন্দে মাতরম’ মানুষের হৃদয়ে অন্য ধরনের রক্তনাচন শুরু করে দিয়েছিল। তাঁর ১৫০ বছর পূর্তিতে এই সিদ্ধান্তকে আমরা দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে সুগভীর সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের বার্তা। তিনি মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকিদের বীরগাথাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদের চেতনাকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের যে ধারা আজ থেকে দেড়শো বছর আগে তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান ভারতের বুকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্যের দেওয়া বার্তা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদের চর্চাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।
