প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার কলকাতার পুজো সংস্কৃতির রাশও যে সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে, তার এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি হলো চেতলায়। গতকাল, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) কলকাতার বিখ্যাত চেতলা গ্রীন স্টার ক্লাব আয়োজিত শ্রীশ্রী গণেশ পুজোর শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক যুগান্তকারী ও কড়া নিদান দিয়েছেন। আর তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই উৎসবের মরশুম শুরুর ঠিক মুখে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির অন্দরে।একসময় কলকাতার এই চেতলা অঞ্চলটি তৃণমূলের দুভেদ্য গড় বলে পরিচিত থাকলেও, নবান্নের ক্ষমতার হাতবদলের পর এবার সেখানে রাজকীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। আর সেই পরিবর্তনের আবহেই দুর্গাপুজো নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, উৎসব বা আনন্দ করার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে সনাতন ধর্মের প্রাচীন নিয়মকে বুড়ো আঙুল চালানো যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শারদোৎসব করুন, আনন্দ করুন, গান-বাজনা করুন, কিন্তু পুজো করতে হবে সম্পূর্ণ শাস্ত্র এবং পরম্পরা মেনে। পঞ্জিকাতে যেমন যেমন লেখা আছে… মায়ের বোধন, কলাবউ স্নান, অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলী, নবমীর আরতি এবং দশমীর নিরঞ্জন—সব নিয়ম মেনে করতে হবে।”
এর পরেই উৎসবের আবহে বিগত তৃণমূল জমানার সুদীর্ঘ ট্রেন্ডকে সরাসরি খোঁচা দিয়ে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে ঘুরলে হবে না।” উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মে পিতৃপক্ষকে তর্পণ করার সময় হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই সময়ে কোনও শুভ কাজ বা উদ্বোধন করা শাস্ত্রমতে নিষিদ্ধ। কিন্তু বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে মহালয়া বা তারও আগে (পিতৃপক্ষ চলাকালীন) দুর্গাপুজো প্যান্ডেল উদ্বোধন করার যে হিড়িক দেখা যেত, নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পুরনো অভ্যাসকেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভাতেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বামপন্থীদের স্টলে ‘শারদোৎসব’ নয়, স্পষ্ট করে ‘দুর্গাপূজা’ শব্দবন্ধটি লিখতে হবে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভিন্ন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ক্লাব বা পুজো কমিটিগুলির ডাকে বর্তমান বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা আদৌ সাড়া দেবেন কি না। সেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে চেতলা অগ্রণী থেকেও ডেকেছে। আমি সেখানেও যাব। কারণ আমার কাছে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ নেই।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, উৎসব সবার, কিন্তু সনাতন রীতিনীতিকে কোনওভাবেই লঘু করা যাবে না। সব মিলিয়ে, নবান্ন দখলের পর এবার বাংলার মেগা উৎসবের রাশও যে বর্তমান বিজেপি সরকার নিজেদের সনাতনী মডেলে পরিচালনা করতে পুরোপুরি কোমর বেঁধে নেমেছে, চেতলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া শাস্ত্রীয় নিদান তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
