Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সিংহাসন বদলাতেই সৌজন্যের হাওয়া! নব্য বিজেপি সরকারের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে কেন ফোন করলেন শশী পাঁজা?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী মিত্র বলে যে কিছু হয় না, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর তা আরও একবার প্রমাণিত। ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর রাজ্যে এখন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) সরকার। আর এই নতুন জমানার নবগঠিত মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ চমক—উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়। একদা যাঁকে প্রাক্তন শাসক শিবিরের চরম আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, আজ তিনিই নব্য বিজেপি সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং অপ্রচলিত শক্তি মন্ত্রকের নতুন অধীশ্বর। আর দায়িত্বভার গ্রহণ করতেই ওপার থেকে ভেসে এল সেই বহুপ্রতীক্ষিত ফোন। লাইনে প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী ড. শশী পাঁজা! ঘনিষ্ঠ মহলে তাপসবাবু নিজেই খোলসা করেছেন সেই ফোনালাপের কথা। জানিয়েছেন, প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শশী পাঁজা তাঁকে ফোন করে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে একে ‘গণতান্ত্রিক সৌজন্য’ বা ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ বলে ধুয়ে মুছে দেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু রাজনীতির অন্দরমহল কি এতটা সরল? ক্ষমতার অলিন্দে কোনো সৌজন্যই যে বিনাশর্তে আসে না, তা রাজনৈতিক কারবারিরা ভালো করেই জানেন।

স্মৃতির পাতা একটু ওল্টালেই মনে পড়বে, এই তো কদিন আগের ঘটনা। উত্তর কলকাতার স্ট্রং-রুমের বাইরে ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষের ধর্না প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে তাপস রায়ের সঙ্গে তাঁদের তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তারও আগে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আবহে শশী পাঁজার উত্তর কলকাতার বাড়িতে তাপস রায়ের আচমকা হাজির হওয়া এবং প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত পাঁজার ছবিতে মালা দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলবদল বা ক্ষমতার পালাবদল হলেও উত্তর কলকাতার পুরনো সমীকরণ এবং ব্যক্তিগত রসায়ন এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। তবে তীক্ষ্ণ প্রশ্নটা উঠছে অন্য জায়গায়। একদা প্রাক্তন জমানায় কোণঠাসা হয়ে পড়া, ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাপস রায় আজ রাজকীয়ভাবে সফল। রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যের চাবিকাঠি এখন তাঁরই পকেটে। এমতাবস্থায়, শশী পাঁজার এই আগ বাড়িয়ে ফোন করাকে অনেকে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখলেও, বিজেপির ঘনিষ্ঠ বৃত্তের দাবি অন্য।

আজ যাঁরা ক্ষমতার হাতবদলে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন, তাঁরা কি এই সৌজন্যের চাদর গায়ে দিয়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের আগাম সলতে পাকাচ্ছেন? নাকি এটা স্রেফ ‘দাদার’ নতুন সাফল্যের সামনে প্রাক্তনদের এক প্রকার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ? আইনি পরিমাপ এবং রাজনৈতিক মর্যাদা বজায় রেখেই সৌজন্যের এই খেলা চলুক। তবে ক্ষমতার এই নতুন অধ্যায়ে রাজ্যের বন্ধ কলকারখানা আর শিল্পের চাকা কতটা ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version