প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় তৃণমূলের কথায় চলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামত আন্দোলন করে সিঙ্গুরের কৃষকরা যে কত বড় ভুল করেছিল, আজ তারা তা নিজেদের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আন্দোলন করার কারণে একদিকে যেমন টাটা চলে গিয়েছে, ঠিক তেমনই কৃষি জমিও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে আজ সিঙ্গুরের যে জমিতে শিল্প হওয়ার কথা ছিলো, সেখানে আজ শ্মশানের মত অবস্থা। তাই সকলেই চাইছেন, পরিবর্তন। কারণ তৃণমূলকে সরিয়ে এবার নতুন সরকার এসে সেই সিঙ্গুরে শিল্প করুক, এমনটাই দাবি জানাচ্ছেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এইরকম একটি আবহে ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে একসময় এই রাজ্যে বাম সরকারকে সরিয়ে তৃণমূলকে আনার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে ওঠা সিঙ্গুরেই একদিকে প্রশাসনিক সভা এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক সভায় উপস্থিত হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যাকে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হিসেবেই মনে করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। অনেকেই আশাবাদী যে, সেই সিঙ্গুরের মাটিতে শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে কোনো বড় বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের সভার দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যবাসীর। অনেক আশা ছিল যে, সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপন হবে, টাটা গোষ্ঠী শিল্প স্থাপন করবে। কিন্তু বিগত দিনে বাম সরকারের আমলে এখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন আন্দোলন শিল্পের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এখনকার সাধারণ মানুষরা খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছেন যে, সেই সময় আন্দোলন করে তারা ভুল করেছেন। ভ্রান্ত আন্দোলনের ফলেই আজ সিঙ্গুর শ্মশানে পরিণত হয়েছে। তাই সকলেই শিল্প বান্ধব সরকার চাইছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে যে শিল্প বলতে কিছুই হবে না, তা সকলেই বুঝতে পারছেন। তাই এখন পরিবর্তনের আওয়াজ তুলতে শুরু করেছেন একসময় বাম থেকে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনা এই সিঙ্গুর।
সূত্রের খবর, টাটা শিল্প গোষ্ঠী সিঙ্গুর ছাড়ার প্রায় ১৭ বছর অতিক্রান্ত। আর এইরকম একটি আবহে সামনেই যখন বিধানসভা নির্বাচন, তখন সেই সিঙ্গুরেই আজ হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা। যেখানে প্রথমে প্রশাসনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি। যে সভা থেকে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করার কথা রয়েছে তার। এমনকি এরপরই যে পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, সেখান থেকেও তিনি সিঙ্গুরে যে শিল্প সম্ভাবনা রয়েছে, ভবিষ্যতে যদি বিজেপির সরকার আসে, তাহলে তাদের কি ভাবনা রয়েছে শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে, সেই নিয়েও বড় বার্তা দিতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজকের সিঙ্গুরের এই সভা ঘিরে রীতিমত সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
