Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের! রবীন্দ্র সদনের মঞ্চ থেকে কোন ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরাখণ্ড, গুজরাট ও অসমের পর এবার কি তবে পশ্চিমবঙ্গ? বদলে যেতে চলেছে রাজ্যের একগুচ্ছ সামাজিক ও আইনি নিয়ম? গতকাল রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে ঠিক এমনই এক বড় ইঙ্গিত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই মঞ্চ থেকে রাজ্যের নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং জনপরিসংখ্যানের পরিবর্তন নিয়ে একাধিক কড়া বার্তা দেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে রাজ্য রাজনীতিতে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) চালুর রূপরেখা তৈরি করতে রাজ্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই উদ্দেশ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত ও ফিডব্যাক গ্রহণ করবে এবং তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইউসিসি-র পাশাপাশি রাজ্যে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরকরণ রুখতে অত্যন্ত কড়া ‘ধর্মান্তর বিরোধী আইন’ (Anti-Conversion Law) আনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর মতো বিষয়গুলি বরদাস্ত করা হবে না। সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।

রাজ্যের সীমান্ত জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশের জেরে জনপরিসংখ্যানের (Demography) দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।” এর সমাধানে রাজ্যে এনআরসি (NRC) কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটকে রাখার জন্য সীমান্ত জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সিএএ (CAA) প্রসঙ্গে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে যে সমস্ত হিন্দুরা বাংলায় এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন, বরং শরণার্থী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তাঁদের সম্পূর্ণ বৈধ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা তুঙ্গে। সংসদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিলগুলি পেশ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তার জন্য আইনি ও প্রশাসনিক খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, রবীন্দ্র সদনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক কড়া ঘোষণা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। এখন দেখার, সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।

Exit mobile version