Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বর্ষার আগেই শিলিগুড়িতে হাইভোল্টেজ তৎপরতা! পুরসভাকে কেন এত কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জেরে যাতে কোনো এলাকায় জল না জমে, তার জন্য পুর প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ড. শঙ্কর ঘোষ। একইসঙ্গে রবিবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত তাঁর বিশেষ গণ-সংযোগ কর্মসূচিতে সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয়দের অভাব-অভিযোগ শুনলেন তিনি‌। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শিলিগুড়ির মার্গারেট স্কুলে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচির তৃতীয় পর্বের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি বিধায়ক দিয়েছিলেন, তাকে বাস্তব রূপ দিতেই এই ‘জনতার দরবার’। এদিনের অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি শহর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে হাজির হন।

শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষার জল জমার সমস্যা বহু পুরোনো। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে অতিবর্ষণ শুরু হওয়ায় শহরজুড়ে জলযন্ত্রণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ পুরসভাকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, নিকাশি নালাগুলি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে এবং জল নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত পাম্প ও পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখতে হবে। বর্ষার মরশুমে সাধারণ মানুষ যাতে জলমগ্ন পরিস্থিতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতা পুর প্রশাসনের রয়েছে বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

এদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত নিকাশি ব্যবস্থার অভাব, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ ও স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির একগুচ্ছ অভিযোগ মন্ত্রীর কাছে লিখিত আকারে জমা দেন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি ও সাধারণ মানুষের জায়গা জবরদখল করার অভিযোগও উঠে আসে। সমস্ত অভাব-অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান করাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। দলমত নির্বিশেষে সমস্ত অভিযোগ যাতে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসন যাতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার জন্য তিনি নির্দেশ জারি করেছেন।

সম্প্রতি শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি বালি-পাথর পাচার এবং সিন্ডিকেট রাজ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। আশিঘর ফাঁড়ি ও ভক্তিনগর থানায় নিজে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এদিন মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, আগামী দিনে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রধাননগর, ভক্তিনগর ও শিলিগুড়ি থানার কাছাকাছি এই ‘সরাসরি শঙ্কর’ শিবিরের আয়োজন করা হবে, যাতে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। বর্ষার দুর্যোগ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও উত্তরবঙ্গে আসা পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরের নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাই এখন ড. শঙ্কর ঘোষের মূল লক্ষ্য। এদিনের কর্মসূচিতে জনতার উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষ তাঁদের সমস্যার সমাধানে মন্ত্রীর এই উদ্যোগের ওপর কতটা ভরসা রাখছেন।

Exit mobile version