Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শিলিগুড়িতে সৌজন্যের রাজনীতি: শঙ্কর ঘোষের ফোন থেকে প্রাক্তন বাম মন্ত্রীর সাথে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এক চিরাচরিত ঐতিহ্য হলো সুস্থ রাজনৈতিক সৌজন্য। দলের মতাদর্শ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বা ব্যক্তিগত সংকটে নেতারা বারবার পরস্পরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ঠিক তেমনই এক অনন্য ও প্রশংসনীয় সৌজন্যের নজির তৈরি হলো উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। আর তাঁর এই অসুস্থতার খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শুধু তাই নয়, নিজের ফোন থেকে তিনি সরাসরি কথা বলিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে।

শনিবার শিলিগুড়ির বাসভবনে আচমকাই পা পিছলে পড়ে যান সিপিআইএম (CPIM) নেতা অশোক ভট্টাচার্য। চোট গুরুতর হওয়ায় তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কোনো রকম রাজনৈতিক রঙ না দেখে তড়িঘড়ি শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে পৌঁছান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রবীণ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি অশোকবাবুর শয্যার পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

হাসপাতালে উপস্থিত হয়েই মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ নিজের মোবাইল ফোন থেকে কল করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর সেই ফোনের মাধ্যমেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রবীণ বাম নেতার সঙ্গে কথা বলেন। শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে অশোক ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ১৬ বা ১৭ তারিখ তিনি যখন উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন, তখন সশরীরে নার্সিংহোমে বা অশোকবাবুর বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। চিকিৎসার সমস্ত রকম সহায়তার বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ভোটের ময়দানে বা রাজনৈতিক মঞ্চে বিজেপির সঙ্গে বামপন্থীদের লড়াই যত তীব্রই হোক না কেন, এই অসুস্থতার দিনে বর্তমান সরকারের এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিক উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিল। কট্টর রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দূরে সরিয়ে রেখে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি এই শ্রদ্ধা ও কর্তব্যবোধ বাংলার সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

Exit mobile version