Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আমার চেয়ে ভালো আর কে জানবে!” শিলিগুড়িতে চা-শ্রমিকদের জন্য বড় বার্তা মোদীর, অসমের মডেলে কি এবার বিরাট বদল ডুয়ার্সে?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ কি এক লহমায় বদলে যেতে চলেছে? শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চা-বাগান এবং চা-শ্রমিকদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর অধিকারের ইস্যুকে উসকে দিয়ে মোদী এক বড়সড় চাল চেলেছেন।

গতকাল শিলিগুড়ির জনসভায় মোদীর কণ্ঠে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত আবেগ। নিজের অতীত জীবনের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি চা-শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের এখানকার চায়ের স্বাদ আমার চেয়ে ভালো আর কে জানবে!” প্রধানমন্ত্রীর এই একটি বাক্য ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিককে উদ্বেলিত করে তোলে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, চায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ চা-বিক্রেতার আত্মিক টান থেকে। এই ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি চা-শ্রমিকদের মনের অন্দরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রতিবেশী রাজ্য অসমের উদাহরণ টেনে এনে চা-বলয়ে বড় পরিবর্তনের সংকেত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি শাসিত অসমে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মোদীর কথায়, “অসমে আমাদের সরকার চা-শ্রমিকদের শুধু সুবিধাই দেয়নি, বরং তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ভূমির পাট্টাও তুলে দিয়েছে হাতে।” উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিকদের কাছে ‘পাট্টা’ বা জমির মালিকানা এক বিশাল আবেগ। মোদী যখন অসমের পাট্টা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন, তখন রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তিনি বাংলার চা-শ্রমিকদের জন্য এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন।

মোদীর নিশানায় ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দিদির সরকার চা-বাগানের উন্নতির দিকে বিন্দুমাত্র নজর দেয়নি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কেন শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার কেবল নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কাজের বেলায় তারা চা-বলয়ের মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, অসমের চা-বাগানে বিজেপি যা করে দেখিয়েছে, তা বাংলার শাসক দল কল্পনাও করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে বিজেপির ভিত্তি মজবুত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। চা-বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার বা পাট্টার ইস্যুটিকে সামনে রেখে বিজেপি এবার বড়সড় ধামাকা করতে চাইছে। যদিও বিরোধীরা একে নির্বাচনী চমক বলে উড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু মোদীর গতকালের বক্তব্য যে পাহাড় ও ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

শিলিগুড়ির এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার— চা-বাগানই আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতির নির্ণায়ক শক্তি হতে চলেছে। মোদীর এই ‘চা-চক্র’ কৌশলের জবাবে এখন তৃণমূল কী পাল্টা চাল দেয়, সেটাই দেখার। তবে মোদীর গতকালের বক্তৃতার পর এটা স্পষ্ট যে, উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে এবার বড় কিছু ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Exit mobile version