প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত উত্তাল বাংলার রাজনীতি। আর এই উত্তাপের পারদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল শিলিগুড়ির বিশাল জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী যা বললেন, তাতে স্পষ্ট যে বিজেপি এবার মরণপণ লড়াইয়ে নেমেছে। কোনো রাখঢাক না রেখেই মোদী সরাসরি বাংলার মানুষের কাছে চাইলেন এক অভাবনীয় ‘সুযোগ’। তাঁর এই আর্জি কি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দেবে? শিলিগুড়ির মাটি থেকে মোদীর এই গর্জন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যত তিন দশকের ইতিহাসকে কাঠগড়ায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনারা বামেদের দীর্ঘ সময় সুযোগ দিয়েছেন। পরিবর্তন চেয়ে তৃণমূলকেও বারবার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু ফলাফল কী হয়েছে? বাংলা কি সেই সোনার বাংলা হয়ে উঠতে পেরেছে?” এই প্রশ্ন তুলেই তিনি তাঁর তুরুপের তাসটি খেলেন। মোদী সরাসরি আবেদন জানান, “মোদীকে একটা সুযোগ দিন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে দেব।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় পাঁচটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়: ইদানীংকালে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। মোদী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “বাংলার মা-বোনদের সুরক্ষার গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি। এখানে নারীদের ওপর আর কোনো অত্যাচার সহ্য করা হবে না।” বাংলার যুবশক্তি কেন ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যাবে? এই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের এক নতুন জোয়ার আসবে, যাতে বাংলার যুবক-যুবতীদের বাইরে পাড়ি দিতে না হয়। রাজ্যে অরাজকতা এবং রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করে প্রকৃত ‘রুল অফ ল’ বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একমাত্র বিজেপিই রাজ্যে ভয়মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার বঞ্চিত মানুষকে বাঁচাতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সুযোগ পেলে বাংলার প্রতিটি গরিব মানুষ বিনামূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার অধিকার পাবেন। বাংলার নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ‘তুষ্টিকরণ’-এর নোংরা রাজনীতি থেকে বাঁচানোর ডাক দেন তিনি। মোদীর মতে, বাংলার মহান ঐতিহ্য আজ বিপন্ন, যা রক্ষা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
শিলিগুড়ির এই সভা থেকে মোদীর এই ‘আবেগঘন আবেদন’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধুমাত্র বিরোধিতাই নয়, বরং বিকল্প উন্নয়নের রূপরেখা সামনে রেখে বাঙালির হৃদয়ে সরাসরি জায়গা করে নিতে চাইছেন তিনি। মোদীর এই ‘একবার সুযোগ’ চাওয়ার বার্তা কি বাংলার মানুষের মনে নাড়া দেবে? শিলিগুড়ির জনসমুদ্রের উন্মাদনা কিন্তু বড় কোনো পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিধানসভার লড়াইতে এই সওয়াল কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।
