Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শিলিগুড়ির মাটি থেকে এ কী ‘মরণপণ’ শপথ নিলেন মোদী? মমতার দুর্গের বিদায়ঘণ্টা কি তবে বেজে গেল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই যুদ্ধের মহড়া দিতে গিয়ে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে এক ঐতিহাসিক জনজোয়ারের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। রবিবারের কাওয়াখালি ময়দান যেন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেই উত্তাল ভিড়কেও স্তব্ধ করে দিল প্রধানমন্ত্রীর একটি মাত্র ঘোষণা। বাংলার মানুষের প্রতি নিজের জীবন উৎসর্গ করার যে অঙ্গীকার মোদী এদিন করলেন, তাতে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন জনসভায় মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় আর আকাশচুম্বী উন্মাদনা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার সাধারণ মানুষের চোখের জল আর হৃদয়ের টান অনুভব করে তিনি মঞ্চ থেকেই এক অভাবনীয় ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ আমাকে এত আশীর্বাদ করছেন। আমিও কথা দিলাম, আপনাদের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। আপনাদের জন্যেই বাঁচব।’’

মোদীর এই ‘আপনাদের জন্যেই বাঁচব’—একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে বাংলার প্রতি তাঁর অসীম দায়বদ্ধতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রধানমন্ত্রী যখন কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা বলেন, তখন তা আর কেবল নির্বাচনী ভাষণ থাকে না, তা হয়ে ওঠে এক পবিত্র ‘শপথ’। শিলিগুড়ির এই মাটি থেকেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আগামী দিনগুলোয় বাংলার শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর লড়াই কোন চরম পর্যায়ে যেতে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর থেকেই বিরোধীদের অন্দরে প্রবল কম্পন শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূলের শাসনে উত্তরবঙ্গ যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে, মোদী এদিন সরাসরি সেই ক্ষততে হাত দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মে মাসের ৪ তারিখের পর বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হবে এবং তৃণমূলের দুর্নীতির ‘হিসাব’ দিতে হবে প্রতিটি পয়সার। মোদী এদিন যেভাবে নিজেকে বাংলার মানুষের ‘সেবক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন, তাতে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব যে আর ধোপে টিকবে না, তা পরিষ্কার।

বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার আরও একটি বড় কারণ হলো মোদীর এই আবেগঘন সংযোগ। সাধারণ মানুষ যখন দেখেন দেশের প্রধান তাঁদের জন্য জীবন বাজি রাখার কথা বলছেন, তখন সেই আবেগের ঝড়ে বড় বড় রাজনৈতিক দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শিলিগুড়ির সভা থেকে মোদী যেন সেই ভাঙনেরই শুরুটা করে দিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কেবল আবেগ নয়, উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো যেভাবে বাংলায় আটকে দেওয়া হচ্ছে, তার বদলা নেবে মানুষ ব্যালট বক্সে। মোদীর এই লড়াই আসলে বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের লড়াই। তিনি কথা দিয়েছেন, বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান আর মা-বোনেদের নিরাপত্তার জন্য তিনি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বেন।

শিলিগুড়ির এই জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, এটি ছিল মোদীর বাংলার মানুষের সাথে এক আত্মিক সম্পর্কের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মরণপণ’ শপথ কি তবে ২০২৬-এ নবান্ন দখলের যুদ্ধে শেষ মোক্ষম অস্ত্র হতে চলেছে? কাওয়াখালির মাঠের সেই অভূতপূর্ব জনজোয়ার অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বিরোধীদের শত বাধা আর কুৎসা ছাপিয়ে মোদীর এই ‘বাঁচব আপনাদের জন্যই’ স্লোগান এখন বাংলার অলিতে-গলিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

Exit mobile version