Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সিঙ্গুরের অভিশাপ মুক্তি? টাটাদের বিদায়ের ২০ বছর পর আম্বানিদের মেগা স্বাগত! শুভেন্দুর হাত ধরে ইতিহাসের চাকা কি ঘুরল?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে ‘সিঙ্গুর’ এবং ‘নন্দীগ্রাম’ এমন দুটি নাম, যা গত দুই দশক ধরে রাজ্যকে বিনিয়োগকারীদের চোখে একটি “শিল্পবিরোধী রাজ্য” হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছিল। টাটাদের ন্যানো গাড়ি কারখানা সিঙ্গুর থেকে গুজরাটে চলে যাওয়ার কালো ইতিহাস বাংলার যুবসমাজকে পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত করেছিল। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক কলঙ্ক পুরোপুরি ধুয়ে ফেলতে মরিয়া নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই সফর এবং মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে হওয়া হাইভোল্টেজ বৈঠকটি আসলে বাংলার সেই পুরনো “শিল্পবিরোধী ভাবমূর্তি” ভেঙে ফেলার এক চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী খুব ভালো করেই জানেন যে, বাংলায় বড়সড় অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে গেলে দেশের এক নম্বর শিল্প গোষ্ঠীর শংসাপত্র প্রয়োজন। আর সেই কারণেই তিনি সরাসরি মুকেশ আম্বানির দরবারে কড়া নেড়েছেন, যা টাটাদের বিদায়লগ্নের পর বাংলার বুকে সবচেয়ে বড় কর্পোরেট কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

বিগত দুই জমানায় যেভাবে শিল্পপতিদের জমি জট, স্থানীয় তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের ভয় দেখানো হতো, তার জেরে বড় বড় কর্পোরেট হাউসগুলি বাংলাকে এড়িয়ে চলত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রিলায়েন্স (Reliance) গোষ্ঠীকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে বাংলায় কোনও “জমি আন্দোলন” বা “সিন্ডিকেট রাজ”-এর অস্তিত্ব নেই। টাটারা যেভাবে বাধ্য হয়ে রাজ্য ছেড়েছিল, আম্বানিদের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ বিপরীত—অর্থাৎ লাল গালিচা পেতে স্বাগত জানানোর পরিবেশ তৈরি করেছে নবান্ন।

২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের কারখানা ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটকে দেশের অটোমোবাইল হাব বানিয়েছিলেন। আর আজ, ২০২৬ সালে, সেই মোদী-শাহের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গুজরাটের জামনগরের আম্বানিদের বাংলায় মেগা বিনিয়োগ করতে টেনে আনছেন। রাজনৈতিকভাবে এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া বর্তমান শাসকদলের জন্য এক মস্ত বড় প্রচারের হাতিয়ার। নবান্ন এবার বুক ফুলিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দাবি করতে পারবে যে, যে দল অতীতে শিল্পের পরিবেশ ধ্বংস করেছিল, তাদের জমানা শেষ হতেই দেশের বৃহত্তম কর্পোরেট বাংলায় বিনিয়োগ করতে ছুটে আসছে।

টাটাদের বিদায়ের পর যে যুবসমাজ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছিল, আম্বানিদের এই মেগা এন্ট্রি তাদের মনে এক নতুন আশার আলো জগাচ্ছে। রিলায়েন্সের হাত ধরে ডিজিটাল পরিকাঠামো, ৫জি হাব এবং বায়োগ্যাস ক্ষেত্রে বিনিয়োগের যে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে সিঙ্গুরের অন্ধকার অতীতকে চিরতরে কবর দিয়ে বাংলা আবার দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প তালুকে পরিণত হবে। অ্যান্টিলিয়ার ড্রয়িংরুমে শুভেন্দু অধিকারীর এই ঐতিহাসিক করমর্দন তাই কেবল ব্যবসা বাড়ানোর চুক্তি নয়, এটি আসলে বাংলার বুক থেকে “শিল্পের শ্মশান” তকমাটি চিরতরে মুছে ফেলার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক যুদ্ধ।

Exit mobile version