প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসআইআরকে আটকানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। এমনকি আদালতের দরজা পর্যন্ত তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়েও তাকে ধাক্কা খেতে হয়েছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই আটকানো যাবে না। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঙ্খিত ইচ্ছা পূরণ হয়নি বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র একা কোর্টে যেতে পারেন না। তাদের কাছেও কোর্টে যাওয়ার রাস্তা খোলা রয়েছে। তাই তারা যে সংখ্যায় নাম বাদ যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন, তা যদি না হয়, তাহলে তারা যে আদালতের দরজায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন এবং গোটা প্রক্রিয়ার দিকে যে তাদের নজর রয়েছে, পরিষ্কার ভাষায় আজ সেই কথাই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসছেন যে, এসআইআরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তিনি আসল কথা বলবেন। যখনই সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছেন যে, এসআইআরে তো সবে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। তখনই তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যেদিন প্রকাশ হবে, সেদিনই তিনি মুখ খুলবেন। প্রত্যেকটি সভা থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করে আসছেন যে, প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি নাম বাদ যাবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। আর যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, প্রায় ৬৪ লক্ষের কাছাকাছি নাম বাদ যেতে পারে। ফলে শুভেন্দুবাবু যে সংখ্যার দাবি এতদিন করে এসেছিলেন যে, ১ কোটির কাছাকাছি নাম বাদ যাবে, তা কি আদৌ বাস্তব হবে? নাকি নিজের দলদাস প্রশাসনকে দিয়ে ভুয়ো তথ্য আপলোড করিয়ে অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার চক্রান্ত সফল করে নিয়েছেন সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্ন বিরোধীদের মধ্যে রয়েছে। তবে এই সমস্ত চালাকি করে যে কোনো লাভ হবে না, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তারা যে তাদের পরবর্তী ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে রেখেছেন, আজ সেই কথাই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিরাট সংখ্যায় নাম বাদ চাওয়া উচিত। তবে বাদ যাবে, না না যাবে, আমরা সেই দিকে লক্ষ্য রেখেছি। বাদ না গেলে তো ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা আছে। ডিইওর কাছে আবেদন হবে। তারা না শুনলে সিইওর কাছে হবে। সিইও না শুনলে কোর্ট তো খোলা আছে। মমতা ব্যানার্জি একা কোর্টে যেতে পারেন। অন্য কেউ যেতে পারেন না!” অর্থ্যাৎ তারা যে ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা আশা করছেন, সেই সংখ্যা যদি পূরণ না হয়, তাহলে তারা যে বিকল্প রাস্তা খুলে রেখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত যে আইনের দরজাতেও তারা যাবেন, তা স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
