প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে, ঠিক সেদিন থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলে আসছেন যে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর আসল খেলা হবে। তবে কত মানুষের নাম বাদ যাবে, এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট হচ্ছে না। খাতায়-কলমে যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এখন পর্যন্ত আপাতত ৬৪ লক্ষ মত মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রথম দিন থেকেই দাবি করে এসেছিলেন যে, ১ কোটির কাছাকাছি নাম বাদ যাবে। কিন্তু আদৌ কি তাদের এই ভাবনা বাস্তবে রূপায়িত হবে? নাকি শুধুমাত্র বলার জন্যই তিনি এই কথা বলেছিলেন? গতকাল সেই ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট ভাষায় সংখ্যা বেঁধে না দিলেও তিনি অতীতে কি বলেছিলেন, তার ক্যাসেটটা বাজিয়ে দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর তার বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠলো যে, তিনি নিশ্চিত, তিনি যে সংখ্যা আগে বলেছিলেন, সেই সংখ্যার ধারে কাছেই বাংলায় এসআইআরে এই সমস্ত অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে।
এই রাজ্যে যেভাবে এসআইআর হচ্ছে, তাতে তৃণমূলের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিনিয়ত যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোচ্চার হচ্ছেন বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে, তার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তৃণমূল ঠিক কতটা চাপে রয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম নাকি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মানুষকে নাকি হেনস্থা করা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত বক্তব্য যে এসআইআর আটকানোর একটা পদ্ধতি, তা বুঝতে বাকি নেই বিরোধীদের। হাতে আর কয়েকটি মাত্র দিন। তারপরেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। আর সেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেই স্পষ্ট হবে যে, বাংলায় ঠিক কত মানুষের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ যেতে চলেছে। এখনও পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ নাম নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। স্বাভাবিকভাবেই একদিকে ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম ইতিমধ্যেই বাদ গিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর তার মধ্যে যে সমস্ত মানুষের নাম নিয়ে যাচাইয়ের কাজ চলছে, সেখানে কত মানুষের নাম বাদ যাবে, তা নিয়েও একটা চর্চা চলছে বিভিন্ন মহলে। আর এসবের মধ্যেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন এই ব্যাপারে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার মুখ থেকে আপনি এগুলো বলাতে পারবেন না। আমি শুরুর আগে বলেছি, কি হতে পারে। শুরুর আগে বলেছি। সেই ক্যাসেটটা একবার বাজিয়ে দেখুন। আর ফাইনাল বলবো, ফাইনাল ভোটার লিস্ট বের হওয়ার পরে। আমি সব জায়গায় বলেছি, ব্রেকফাস্ট হয়েছে, লাঞ্চ হয়নি। লাঞ্চের পরে কথা হবে।”
