প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- নির্বাচন কমিশন বুঝতে পেরেছে, বাংলায় তারা যতই নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করুক না কেন, এক শ্রেণীর আমলারা চেষ্টা করছে, তৃণমূলের কথায় চলতে। আর তা ধরে গতকালই বেশ কিছু জেলা শাসককে কড়া ভাষায় সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তারপরেও ভোটের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়ানোর জন্য এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো নির্বাচন কমিশন। যেখানে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এন কে মিশ্রকে বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হলো আর কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলা নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস ভাবেই এগোতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
বাংলায় প্রথম দিন থেকে এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এর প্রবল বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই এসআইআরকে বন্ধ করার জন্য আদালত পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন বলেই দাবি করে বিরোধীরা। তবে কোনোভাবেই যে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। যার ফলে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে অবৈধ ভোটারদের ভোটার লিস্টে রেখে দেওয়া এই রাজ্যের শাসক দল বলেই বিরোধীদের পক্ষ থেকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে গতকাল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভিডিও কনফারেন্সে যে বৈঠক করেছেন, সেখানে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, এই রাজ্যের বেশ কিছু জেলাশাসক রাজনৈতিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে তৃণমূলের কথামত তারা কাজ করে ভোটার তালিকায় যাতে অস্বচ্ছতা বজায় রাখা যায় এবং অবৈধ ভোটারদের রাখা যায়, তার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই সেই সমস্ত জেলা শাসকদের রীতিমত সেই বৈঠকে সতর্ক করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার বলেই খবর। এমনকি বেশ কিছু নির্দেশ অমান্য করার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পর্যন্ত দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিলো। আর এবার বাংলার জন্য আরও বড় সিদ্ধান্ত নিলো জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যেখানে যোগী রাজ্য থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে এক আধিকারিককে।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বাংলায় যাতে স্বচ্ছভাবে নির্বাচন হয়, তার জন্য অত্যন্ত কড়া দৃষ্টি রেখেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। তাই এবার ভোট ঘোষণা আগে বাংলায় অনিয়মকে বন্ধ করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ভাবে পরিচালিত করতে যোগী রাজ্য অর্থাৎ উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এন কে মিশ্রকে বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলায় এবার যে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট করাই একমাত্র টার্গেট, তা আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি কোনো অবৈধ উপায় কেউ অবলম্বন করতে যায়, তাহলে তাদেরকে টাইট করতেও যে কমিশন দুবার ভাববে না, তা তাদের একের পর এক সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়েই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
