প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর করছে নির্বাচন কমিশন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতবারই সেই এসআইআরের বিরোধিতা করছেন, ততবারই তিনি ঘুরিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপিকে আক্রমণ করছেন। তিনি দাবি করছেন যে, অমিত শাহ নাকি পরিকল্পনা মাফিক বাংলাকে দখলের জন্য এই সমস্ত কাজ করাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত যুক্তি যে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না, তা খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এটাও বলতে শুরু করেছেন যে, এতদিন অবৈধ ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রেখে একের পর এক বৈতরণী পার হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিতে এসআইআর শুরু করেছে, তাতে অবৈধ ভোটারদের কারবার শেষ হতে চলেছে। আর সেই কারণেই যাদের নিয়ে সন্দেহ, তাদের নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠাতেই রীতিমত আতঙ্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যের শাসকদলের মধ্যে। যার ফলস্বরূপ নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দলদাস বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করতে শুরু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ আবারও উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গোটা ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করার পাশাপাশি বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে এসআইআর হচ্ছে এবং যেভাবে নির্বাচন কমিশন গোটা প্রক্রিয়া পরিচালিত করছে, তা যেন কোনোমতেই সহ্য হচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের। প্রতিনিয়ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা দখলের চক্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করছেন। এমনকি প্রচুর মানুষকে এসআইআরের নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ করছে রাজ্যের শাসক দল। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণেই নির্বাচন কমিশন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এর পেছনে যে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই, সেই ব্যাপারে পাল্টা যুক্তি দিতে শুরু করেছে বিরোধীরা। আর এসবের মধ্যেই আজ ফের উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে গোটা বিষয়ে সোচ্চার হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই এসআইআরের শুনানি নিয়ে সোচ্চার হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বেও বলছে, আধার কার্ড গ্রহণ করা হবে না। মালদায় ৯০ হাজার জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি ঠিক করবে? যাদের শুনানিতে ডাকবে, নাম বাদ দিলে দরখাস্ত জমা দিন। কোনো রাজ্যে হচ্ছে না, একমাত্র বাংলায় হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করুন। মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা জানাবে।”
