প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন একদম শেষ মুহূর্তে আসল খেলাটা খেলতে শুরু করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, এতদিন ধরে তারা অনেক অনিয়ম বরদাস্ত করেছে। এতদিন ধরে তারা অনেক সময় দিয়েছে। কিন্তু না, আর এইভাবে অনিয়ম বরদাস্ত করা যাবে না। তাই শেষ মুহূর্তে এসআইআরের শুনানি যেদিন শেষ হবে, ঠিক তার আগের দিন ভার্চুয়াল বৈঠকের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের একাধিক জেলা শাসককে রীতিমত সবক শিখিয়ে দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার। তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় বেশ কিছু জেলাশাসক কাজ করছেন বলে এতদিন বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলো। আর এবার একেবারে জেলা ধরে ধরে জেলা শাসকদের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে তাদের ভূমিকায় যে কমিশন মোটেই খুশি নয়, তা স্পষ্ট করে দিলো দিল্লি।
এতদিন বিরোধীরাও বলতে শুরু করেছিলেন যে, রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে এবং তাতে তৃণমূলের গাত্রদাহ হচ্ছে, এটা অত্যন্ত ঠিক কথা। তবে এই সুযোগেও রাজ্যের বেশ কিছু জেলাশাসক তৃণমূলের কথায় কাজ করছেন এবং তারা আইপ্যাকের কথামত অবৈধ নাম যাতে ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়া যায়, তার জন্য নীচুতলার আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছেন। তাই সেই সমস্ত জেলা শাসকদের একটু টাইট দিতে হবে। আর নিজেদের খোঁজ খবরের ভিত্তিতে কমিশনের কাছেও এই খবর পৌঁছে গিয়েছে যে, কোন কোন জেলা শাসক এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। তাই আজ ভার্চুয়াল বৈঠকে বেশ কিছু জেলার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, এদিন দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার সহ ফুল বেঞ্চ রাজ্যের সিইও এবং বিভিন্ন জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন। আর সেখানেই পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসককে রাজনৈতিক কথাবার্তা না বলার নির্দেশ দেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি মালদহ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দুই চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকদের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আর এই খবর সামনে আসার পরেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, অবশেষে আসল খেলা খেলতে শুরু করেছে দেশের নির্বাচন কমিশন। যে সমস্ত জেলা শাসকরা ভেবেছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত তারা তৃণমূলের কথামত কাজ করবেন, তাদের ব্যাপারে সমস্ত রিপোর্ট যে নির্বাচন কমিশনের কাছে রয়েছে, তা আজ তাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
