Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সব শেষ! মমতার ‘খাস’ দুর্গে বড় ধস, কোন ‘বিরাট’ মাথা এখন পদ্ম শিবিরে? কাঁপছে নবান্ন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলায় কি তবে মহাপ্রলয় শুরু হয়ে গেল? বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই তৃণমূলের সাজানো বাগানে কি এবার মড়ক লাগার উপক্রম? রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে দাবানলের মত ছড়িয়েছিল, আজ তা-ই সত্যি হলো। যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন— এ তো কেবল ট্রেলার, আসল সিনেমা এখনও বাকি। তৃণমূলের অন্দরে যখন ‘সব ঠিক আছে’ বলে দাবি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার মত হাই-প্রোফাইল জেলা থেকে এল বড় ধাক্কা। উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপী এবং তাঁর স্বামী মৃণ্ময় কাশ্যপী আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। অর্জুন সিংয়ের হাত ধরে এই যোগদান কি স্রেফ একটা সাধারণ দলবদল? একেবারেই না। নেপথ্যের রসায়নটা তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, শাসকদলের কফিনে শেষ পেরেকটা পোঁতার কাজ শুরু হয়ে গেল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। এই দলবদলের সবথেকে বড় চমক হলেন মৃণ্ময় কাশ্যপী। রাজনৈতিক মহলে এটি ওপেন সিক্রেট যে, একসময় দীর্ঘদিন জেলে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর দীর্ঘদিনের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

যাঁর ইশারায় একসময় ওই তল্লাটের রাজনীতি ওঠাবসা করত, আজ সেই দাপুটে নেতার পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেওয়া প্রমাণ করে দিচ্ছে— তৃণমূলের অন্দরে ধস এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যা মেরামত করা কার্যত অসম্ভব। বিশ্বস্ত সেনাপতিরাই যখন তরণী ত্যাগ করেন, তখন বুঝতে হবে জাহাজের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। বিগত এক দশকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দেখেছে ক্ষমতার দাপট, সিন্ডিকেট রাজ আর দুর্নীতির পাহাড়। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারির পর থেকেই জেলা তৃণমূলের রাশ আলগা হতে শুরু করেছিল। নিচুতলার কর্মীরা বুঝে গিয়েছেন, যে দলের ভাবমূর্তি আজ তলানিতে, সেখানে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শ্রাবণী কাশ্যপীদের মত জনপ্রতিনিধিদের বিজেপিতে আসা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ আঁচ করতে পেরেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এখন গেরুয়া শিবিরই একমাত্র ভরসা।

আগামী বিধানসভা ভোটের আগে এই ভাঙন তৃণমূলের জন্য এক অশনি সংকেত। আজ যা ব্যারাকপুরে শুরু হলো, তা দাবানলের মত সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এখন এমন এক ডুবন্ত জাহাজ, যেখান থেকে প্রাণ বাঁচাতে খোদ ক্যাপ্টেনরাই ঝাঁপ দিচ্ছেন।
আইনি ধমক-চমক বা প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে আর কতদিন মসনদ রক্ষা করবে শাসকদল? আজকের এই ছবি পরিষ্কার করে দিচ্ছে— পরিবর্তন আসন্ন, আর সেই পরিবর্তনের ঝড়ে নবান্নের ভিত যে রীতিমতো কাঁপছে, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

Exit mobile version