Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সময়ের চাকা অলঙ্ঘ্য: কালীঘাট থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, রাজকীয় নিরাপত্তা বলয়ে যবনিকা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রবাদ আছে, ‘সময় দেয়, আবার সময় কেড়েও নেয়’। মহাকালের সেই অমোঘ নিয়মেরই যেন প্রতিফলন ঘটছে বর্তমান বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় যে রাজপথ ছিল দুর্ভেদ্য দুর্গ, যেখানে পুলিশের পাহাড়ায় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত, আজ সেখানে পরিবর্তনের হাওয়ায় সুর পাল্টেছে প্রশাসন। জনমতের রায়ে ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদলের পর এবার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সেনাপতির নিরাপত্তা বলয় থেকে সরছে রাজকীয় আবরণ।

মঙ্গলবার বিকেলের পড়ন্ত রোদে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের পরিচিত বাসভবনের সামনে থেকে একে একে সরে যাচ্ছে লোহার গার্ডরেল আর পুলিশের ব্যারিকেড। ক্ষমতার উত্তাপ যখন স্তিমিত হয়, তখন প্রোটোকলের কঠোরতাও যে শিথিল হয়ে পড়ে—এ দৃশ্য যেন তারই এক নির্বাক সাক্ষ্য।
অন্যদিকে, লালবাজারের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও অফিসের বাইরের অতিরিক্ত পুলিশি প্রহরা বা ‘পিকেট’ তুলে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকালের সূর্যোদয়ের সাথেই কার্যকর হতে চলেছে এই নির্দেশ। প্রশাসনিক ভাষায় এটি ‘অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার’ হলেও, রাজনৈতিক মহলে একে দেখা যাচ্ছে এক যুগের অবসান হিসেবে।

ইতিহাস সাক্ষী আছে, রাজমুকুট যখন স্থানান্তরিত হয়, তখন রাজকীয় অনুষঙ্গগুলোও নিজের পথ খুঁজে নেয়। যে ব্যারিকেড এতদিন সুরক্ষার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আজ তা স্রেফ লোহার স্তূপ হয়ে ফিরে যাচ্ছে সরকারি গুদামে।

লালবাজারের এই পদক্ষেপ স্রেফ প্রশাসনিক রুটিন নয়, বরং এক বিরাট রাজনৈতিক বিবর্তনের প্রতীকী রূপ।
পথ আজ উন্মুক্ত, ব্যারিকেডহীন রাস্তায় নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তিলোত্তমা। সময়ের এই বিচিত্র খেলায় ক্ষমতার সোপান থেকে সাধারণের কাতারে নেমে আসার এই দৃশ্য এখন বাংলার মুখে মুখে।

Exit mobile version