Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজবদল হতেই খেলা শেষ! এবার সোজা ইডির খাঁচায় কলকাতার ‘ডন’, কাঁপন ধরল কোন কোন নেপথ্য নায়কের বুকে?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গে ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তন আসতেই কি তবে খাস কলকাতার সিন্ডিকেট রাজের শেষের শুরু হয়ে গেল? অবশেষে পাতা ফাঁদেই পা দিল বাঘ! রাজ্যজুড়ে বছরের পর বছর ধরে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা কুখ্যাত সিন্ডিকেট ডন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু আর পার পেলেন না। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র দফতরে সশরীরে হাজিরা দিতে বাধ্য হলেন এই পলাতক ডন। কলকাতা পুলিশের হেভিওয়েট আইপিএস তথা প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ইডির স্ক্যানারে আসতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল সোনা পাপ্পুর আত্মবিশ্বাসের দেওয়াল। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন ফেরার ইঙ্গিত মিলতেই এবার কফিনে শেষ পেরেক পড়তে শুরু করেছে।

গত সাড়ে তিন মাস ধরে যে ডন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির চোখে ধুলো দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, এদিন সকালে তিনি নাটকীয়ভাবে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সোজা হাজির হন ইডি দফতরে। মুখে অবলীলায় দাবি করলেন, “আমি পালিয়ে যাইনি, ঘরেই পুজো করছিলাম!” কিন্তু তাঁর এই দাবিতে যে ইডির দুঁদে আধিকারিকরা গলে যাচ্ছেন না, তা স্পষ্ট। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে এর আগেই উদ্ধার হয়েছিল ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ, বিপুল সোনা এবং বেআইনি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র. ফলে সোনা পাপ্পুর ‘সাধু’ সাজার চেষ্টা ধোপে টিকবে না বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ।

এই ঘটনার আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে অন্য জায়গায়। কিছুদিন আগেই ইডি লুপআউট নোটিশ জারি করেছিল কলকাতা পুলিশের প্রভাবশালী ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তদন্ত কারীদের সূত্র অনুযায়ী, এই পুলিশ কর্তার ছত্রছায়াতেই খাস কলকাতায় জমি দখল থেকে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির সাম্রাজ্য চলত. রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে, তার জেরেই এই অ্যাকশন বলে মনে করা হচ্ছে। এবার প্রশ্ন উঠছে, একজন ডিসি পদমর্যাদার অফিসার কি কেবল নিজের ক্ষমতাবলে একজন ডনকে আড়াল করছিলেন? নাকি এর পেছনে সুতো নাড়াতেন অন্য কোনো নেপথ্য নায়ক?

সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ ও জোরপূর্বক জমি দখলের অন্তত ১৫ টি মামলা ঝুলছে. আইনের হাত যে কত লম্বা, তা আজ প্রমাণ করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনা পাপ্পু মুখ খুললে বিগত জমানার একাধিক সুবিধাভোগী নেতা এবং পুলিশ কর্তার রাতের ঘুম উড়ে যাবে। লোকসভা বা পুরভোটের বৈতরণী পার করতে এই সিন্ডিকেটের টাকা কোথায় কোথায় যেত, এখন সেটাই ইডির মূল স্ক্যানার। বাংলার বুকে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় এজেন্সির এই গতিবিধি এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

Exit mobile version