প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কাকভোরে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা! সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে আজ সাতসকালেই মুর্শিদাবাদের কান্দিতে এক নজিরবিহীন অ্যাকশনে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতি দমনে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি আরও সক্রিয়, ঠিক তখনই এই হাই-ভোল্টেজ অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। আজ সকালে ধৃত শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের কান্দির ডেরায় যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা পৌঁছন, তখন চারপাশ ছিল সুনসান। মূল ফটকে ঝুলছিল বড়সড় তালা। কিন্তু কোনো বাধাই আটকাতে পারল না কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। তদন্তের স্বার্থে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে, আদালতের নির্দেশিকা মেনে এবং স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে নিয়ে আসা হয় তালা ভাঙার সরঞ্জাম।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে যারা পার পেয়ে গিয়েছিল, এখন আইন তার নিজস্ব গতিতেই তাদের খোঁজে নামছে। সোনা পাপ্পু মামলার জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক নয়ছয়ের নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী মাথা যুক্ত রয়েছে, তা জানতেই শান্তনুকে আগেই হেফাজতে নিয়েছিল ED। এবার তাঁর কান্দির বাড়িতে এই তল্লাশি সেই তদন্তেরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই চারপাশ নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আলমারি ও গোপন লকার খুলে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র এবং সম্পত্তির দলিল খোঁজা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল এবং হার্ড ডিস্ক খতিয়ে দেখছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা, যাতে মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।আইন মেনেই তল্লাশি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং সমস্ত পদক্ষেপের ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এই অভিযান থেকে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য বা নথি উদ্ধার হয় কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
