Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হাসপাতাল যেন উত্তর কোরিয়া! ২৬ দিন পর অনশন ভাঙতেই সোনম ওয়াংচুকের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় দেশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটানা অনশন করার পর অবশেষে সরকারের লিখিত আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন লাদাখের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে দীর্ঘ ২৬ দিনের এই অনশন ভাঙার পরপরই দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতাল-কে নিয়ে তাঁর করা এক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাধীন থাকার সময় সরকারি হাসপাতাল চত্বরকে কার্যত ‘উত্তর কোরিয়া’ এবং ‘জেলখানা’র মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গত ১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ২৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ওয়াংচুক তাঁর অবরুদ্ধ দিনগুলির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাঁকে কোনো ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বাইরের দুনিয়া বা সতীর্থদের সাথে যোগাযোগের সমস্ত পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সমাজকর্মীর দাবি, তিনি যদি কোনো কাগজের টুকরো বা টিস্যু পেপারের ওপর নিজের কোনো বার্তা লিখে বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতেন, তবে কর্তব্যরত পুলিশ বা চিকিৎসাকর্মীরা তা দেখা মাত্রই কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে ফেলতেন। তাঁর স্ত্রী গীতাজলি, ভাই এবং ভগ্নিপতি—এই তিন পারিবারিক সদস্য ছাড়া তাঁর কোনো আইনজীবী বা ব্যক্তিগত চিকিৎসককে কেবিনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ভেতরে ঢোকার সময় তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোনও পুলিশ আটকে দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

সফদরজং হাসপাতালে এই ‘কড়া নজরদারি’ এবং স্বাধীনতাহীনতার বিরুদ্ধে সোনম ওয়াংচুকের পরিবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ও হস্তক্ষেপে গত ২১ জুলাই ওয়াংচুকের শারীরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাঁকে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতাল থেকে গুরুগ্রামের মেদান্তা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, সোনম ওয়াংচুককে কোনো আইনি হেফাজতে বা গ্রেফতারে রাখা হয়নি। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শরীরে পটাশিয়াম ও অন্যান্য প্যারামিটার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সম্পূর্ণ চিকিৎসার স্বার্থে এবং তাঁর জীবন রক্ষার্থেই সরকারি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল টিম ও নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একজন হাই-প্রোফাইল আন্দোলনকারীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং মেডিকেল প্রোটোকল বজায় রাখার জন্যই কিছু সাময়িক প্রশাসনিক কড়াকড়ি করা হয়েছিল, যার পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।

অবশেষে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের পর, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অহেতুক আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে ২৪শে জুলাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন। তবে সরকারি হাসপাতালের এই ‘বন্দিদশা’ বনাম ‘চিকিৎসার বাধ্যবাধকতা’র বিতর্কটি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিল।

Exit mobile version