প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই প্রশাসনিক অলিন্দে শুরু হয়ে গেছে এক বড়সড় শুদ্ধিকরণ। যে ভিভিআইপি সংস্কৃতির মোহে বিগত সরকার সাধারণ মানুষের করের টাকায় খামখেয়ালি নিরাপত্তার আতিশয্য তৈরি করেছিল, নতুন শাসনব্যবস্থা সেখানে শক্ত লাগাম টানা শুরু করল। এরই প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয় বড়সড় কাটছাঁট করল নবগঠিত রাজ্য প্রশাসন। তাঁর নিরাপত্তা ‘জেড’ ক্যাটেগরি থেকে দুই ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরি করা হয়েছে।
বিগত সরকারের জমানায়, বিশেষ করে ২০২৩ সালের মে মাসে, মহারাজকে আচমকাই ‘জেড’ ক্যাটেগরির রাজকীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তখন তাঁর কনভয়ে ঘুরত পাইলট কার, সাথে মোতায়েন থাকত রাজ্য পুলিশের কমান্ডো সহ এক বিশাল বাহিনী। সেই সময় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের আচমকা এমন কী ঝুঁকির মাত্রা তৈরি হলো যে সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই বিপুল আয়োজন করতে হবে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে ছিল কোনো রাজনৈতিক তোষণ বা দাক্ষিণ্য? আজ যখন বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার আসীন, তখন স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পষ্ট বার্তা—সুরক্ষা মিলবে পদের গুরুত্ব ও প্রকৃত ঝুঁকির খতিয়ান মেপে, কোনো ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা বা রাজনৈতিক খাতিরে নয়।
নতুন স্বরাষ্ট্র দফতরের পর্যালোচনার পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রোটোকলে বড়সড় বদল আনা হয়েছে। এর ফলে সেই বিশাল লটবহর আর থাকছে না। এখন থেকে তাঁর সুরক্ষায় থাকবেন মাত্র ৩ থেকে ৪ জন পুলিশ কর্মী। রাস্তা আটকে রাজকীয় কনভয় ছুটিয়ে আর পাইলট কার ঘোরার দিন শেষ। সাধারণ মানুষের মতোই রাস্তায় যাতায়াত করবেন ভিআইপি-রা। নিয়ম অনুযায়ী সার্বক্ষণিক কেবল ২ জন সশস্ত্র পিএসও (PSO) তাঁর সাথে থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, বাংলায় আইনের শাসন চলবে এবং কোনো বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা রাজনৈতিক জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে ভিআইপি সুরক্ষায় ওড়ানো বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে তারই এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন দেখা গেল। মহারাজ ক্রিকেট মাঠের সম্রাট, বাংলার গর্ব—তাঁকে সম্মান দেওয়া অবশ্যই কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কিন্তু রাজকোষের অপচয় করে সেই সম্মানের নামে আতিশয্য দেখানোকে যে নতুন বাংলা আর প্রশ্রয় দেবে না, নবান্নের এই একটি সিদ্ধান্তেই তা পরিষ্কার।
