প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মাঠের সবুজ ঘাসে তিনি যখন খেলতেন, তখন বলের গতি বুঝে অফ-সাইডে কাট বা ড্রাইভ মারার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। কিন্তু ক্রিকেট থেকে অবসরের এতদিন পরেও যে তাঁর ‘টাইমিং’ এবং ‘ফুটওয়ার্ক’ একই রকম চমৎকার রয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বাঙালির প্রিয় ‘দাদা’। আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026)-এর কেকেআর বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচের হাই-ভোল্টেজ উত্তেজনার মাঝেই ইডেন গার্ডেন্স সাক্ষী থাকল এক চরম রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ডিগবাজির!রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ যখন ইডেনের স্পোর্টস মিনিস্টার বক্সে পা রাখলেন, ঠিক তখনই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)-এর সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যেভাবে ছুটে গিয়ে তাঁকে বরণ করলেন, তা দেখে গ্যালারির সচেতন দর্শকরা মুচকি না হেসে পারলেন না।
যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কিছুদিন আগেও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ঠ বৃত্তে দেখা যেত, যাঁর জন্য নবান্নের দরজা সবসময় খোলা থাকত, সেই মহারাজের হাতেই এবার দেখা গেল ভোলবদলের এক অনবদ্য ‘মাস্টারক্লাস’। ক্ষমতার হাওয়া একটু অন্য অভিমুখে বইতেই, সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পরম আদরে ও হাসিমুখে নবনির্বাচিত বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলায় পরিয়ে দিলেন খাঁটি গেরুয়া উত্তরীয় এবং হাতে তুলে দিলেন ফুলের স্তবক। নেটিজেনদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় টিপ্পনী কাটতে শুরু করেছেন। অনেকেই বলছেন, পিচের চরিত্র বদলালে কীভাবে নিজের খেলার ধরন বদলে নিতে হয়, তা সৌরভের চেয়ে ভালো আর কে জানেন! বাম জমানা থেকে শুরু করে ঘাসফুল, আর এখন পদ্ম শিবিরের উদয়— সব ঋতুতেই ‘মহারাজ’ যেভাবে নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখেন, তা সত্যিই যেকোনো রাজনৈতিক চাণক্যের ঈর্ষার কারণ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য একা ছিলেন না। সময়ের ডাক বুঝে তাঁর সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন সিএবি-র বাকি শীর্ষ কর্তারাও। মাঠে যখন কেকেআর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছিল, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে সৌরভের এই ‘পজিশন বদল’-এর পারফরম্যান্স গ্যালারির সব লাইমলাইট কেড়ে নেয়। অন্যদিকে, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবশ্য এসবের তোয়াক্কা না করে ইডেনের বক্সে বসে সাধারণ মানুষের মতো জমিয়ে ‘ঝালমুড়ি’ উপভোগ করেন। একদিকে কেকেআর-এর জয়, আর অন্যদিকে ক্ষমতার অলিন্দে সৌরভের এই নিখুঁত ও চতুর ‘টাইমিং’— সব মিলিয়ে ইডেনের এই ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে শুধু চার-ছয়ের জন্য নয়, বরং দাদার এই অবিশ্বাস্য ভোলবদলের ইতিহাসের জন্যই দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
