Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“ময়দানে এবার শুধুই খেলা হবে, কোনো দাদাগিরি নয়!”—দুর্নীতি ও থ্রেট কালচার রুখতে কড়া বার্তা ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকির সংস্কৃতি এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম দূর করতে কড়া অবস্থান নিলেন নবনিযুক্ত ক্রীড়ামন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবার ময়দান টেন্টে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, খেলার মাঠে রাজনীতির রঙ দেখে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাঠে ময়দানে এতদিন খেলাধুলার চেয়ে রাজনীতি আর কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মই বেশি জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু এবার খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে, কোনো দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।” পেশায় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ এই তরুণ চিকিৎসক-মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই বাংলার ক্রীড়াকাঠামোকে আমূল বদলে ফেলতে তৎপর হয়েছেন।

পূর্বতন জমানার ক্রীড়া নীতি ও পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, অতীতে খেলাধুলার প্রকৃত উন্নয়নের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই চটকদার বিনোদন ও গ্ল্যামারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বিগত বছরগুলোতে লিওনেল মেসির কলকাতা সফর সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন এবং বেশ কিছু ফুটবল ক্লাবের ম্যাচ ফিক্সিং বা স্বজনপোষণ নিয়ে যে সমস্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, নতুন প্রশাসন সেই সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া জুনিয়র স্তরে বয়স ভাঁড়ানো বা ট্রায়ালে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ নেওয়ার যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে, তাও সমূলে উপড়ে ফেলার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

সিএবি (CAB) তথা বাংলার ক্রিকেটের অভ্যন্তরে চলা বিভিন্ন অনিয়ম রুখতে এবং একটি ‘অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ চালু করার দাবি জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পড়েছি। অতীতে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। এই বিষয়ে ওঁর সঙ্গে আমি দ্রুত বৈঠকে বসছি। ময়দানে কোনো তোলাবাজি বা থ্রেট কালচার চলবে না।” নতুন ক্রীড়ামন্ত্রকের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাকে বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে পুনরুজ্জীবিত করা। সেই লক্ষ্যে আজ, বুধবার টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। মন্ত্রক সূত্রে খবর, লিয়েন্ডার পেজ ছাড়াও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বাংলার ক্রীড়া আইকনদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরি করা হবে, যাতে অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো আসরে বাংলার ছেলেমেয়েরা দেশের হয়ে পদক জয় করতে পারে।

ক্রীড়ামন্ত্রীর এই অনমনীয় মনোভাব দেখে স্পষ্ট যে, ময়দানের ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক আখড়া বানানোর দিন শেষ হতে চলেছে। ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ-র হাত ধরে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে এবার স্বচ্ছতা এবং নিয়মানুবর্তিতা ফিরবে বলেই আশা করছেন রাজ্যের ক্রীড়াপ্রেমীরা।

Exit mobile version