প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন পঞ্চসায়র থানার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) চত্বর রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) ঘনিষ্ঠ উপভোক্তা কল্যাণ সংস্থা অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের একদল পড়ুয়া ও আয়োজকদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই উত্তেজনার জেরে পঞ্চসায়র থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৩টি পৃথক এফআইআর (মামলা) দায়ের করেছে।
ঘটনায় প্রথম দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (ABGP) পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, তারা সমস্ত নিয়ম মেনে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ১৫,০০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে মেইন অডিটোরিয়ামটি অগ্রিম বুকিং করেছিলেন। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ অনুষ্ঠান শুরু হতেই ক্যাম্পাসের একদল পড়ুয়া সেখানে ঢুকে তাদের ব্যানার, ফেস্টুন এবং পতাকা ছিঁড়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। সংগঠনের অভিযোগ, হামলাকারীরা ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া পোস্টার অবমাননা করেছে এবং তাঁদের নেতাদের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁদের ৪ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।অন্য দিকে, SRFTI-এর ছাত্র সংসদ এবং পড়ুয়াদের তরফ থেকে একটি পাল্টা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম সাধারণত কোনো রাজনৈতিক বা নির্দিষ্ট ভাবধারার কর্মসূচির জন্য ভাড়া দেওয়া হয় না, অথচ তাঁদের না জানিয়েই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে অডিটোরিয়ামের বাইরে পোস্টার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন বহিরাগতরা উসকানিমূলক মন্তব্য করে এবং তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, লাথি ও ঘুসিসহ তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং ছাত্রীদেরও হেনস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া এবং ২ জন অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলে ছাত্র সংসদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
খবর পেয়েই পঞ্চসায়র থানা এবং কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরে পড়ুয়ারা দীর্ঘক্ষণ ক্যাম্পাসের মূল গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ এক পক্ষের কর্মীদের সুরক্ষাবলয় তৈরি করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস চত্বরে কড়া পুলিশি পাহারা রয়েছে। কলকাতা পুলিশ তিনটি এফআইআর-এর সূত্র ধরে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
