প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গঠন করার পর থেকেই হুমায়ুনবাবু আওয়াজ দিচ্ছিলেন যে, তিনি তৃণমূল এবং বিজেপি দুই শক্তিকেই আটকে দেবেন এবং এমন একটা আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি বিধানসভায় যাবেন, যাতে তার দল নির্ণায়ক শক্তি হয়ে ওঠে। মাঝে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, তিনি বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফের সঙ্গে বৃহত্তর জোটে থাকতে পারেন। তবে গতকাল হুমায়ুনবাবু নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বাম এবং আইএসএফের সঙ্গে জোটে থাকছেন না। স্বাভাবিক ভাবেই বারবার করে তার কথায় এক এবং কাজে আর এক, এই দ্বৈত নীতি ঘিরে তার প্রতি যে অনেক মানুষেরই বিশ্বাসের ঘাটতি হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সকলেই এখন যে হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু ভোট অনেকটা টানতে পারবেন বলে মনে করেছিলেন, তারা অনেকেই হতাশ। তারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত লাভের লাভ হয়ত কিছুই হবে না। আবার হয়ত তৃণমূল সংখ্যালঘুদের একটা বিরাট ভোট পেয়ে ক্ষমতায় চলে আসবে। তবে হুমায়ুনবাবু অবশ্য দাবি করছেন, কোনো মতেই তিনি এবার তৃণমূলকে ক্ষমতায় আসতে দেবেন না। মিম সহ অন্যান্য যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি রয়েছে, তাদের সঙ্গে মিলে তিনি জোট করে লড়াই করবেন। আর এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের বারবার করে স্ট্যান্ড বদল ঘিরে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই তাকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ন মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
মাঝে মনে করা হয়েছিল যে, সংখ্যালঘুদের ভোট যদি তৃণমূল না পায়, তাহলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এক্ষেত্রে হুমায়ুন কবীর যে দল গঠন করেছেন, সেই দল সহ বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ সবাইকে একত্রিত হতে হবে। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে যে বামেরা থাকছে না, তা এক দিকে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। গতকাল হুমায়ুন কবীর নিজে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি বামেদের সঙ্গে এবং আইএসএফের সঙ্গে এক জোটে থাকছেন না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে, সবাই আলাদা আলাদা করে নিজের মত করে লড়াই করছে। এক্ষেত্রে আর যাই হোক, সংখ্যালঘু ভোট যদি ভাগ হয়ে যায়, তাহলেও যে তৃণমূলের খুব একটা লাভ হবে না, তা বলাই যায়। কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে যদি এই বিরোধী শক্তিরা করতো, তাহলে তৃণমূলকে অনেকটাই চাপে রাখা যেত, সেই সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। আর এসবের মধ্যেই যখন হুমায়ুন বাবু মিম সহ অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে লড়াই করার কথা বলছেন, ঠিক তখনই সেই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীর সব পার্টি করেছেন। এখন ওনার মনে হয়েছে, আলাদা পার্টি করে লড়া উচিত। এখন যারা ওনার সঙ্গে যাবে, তারা লড়বে। আমি জানি না, উনি কি ভেবে পার্টি করেছেন। নিজের জোরে লড়বেন, না অন্যের জোরে লড়বেন! এখনও সময় আছে। চর্চা চলছে, কে কার সঙ্গে থাকবে। ইকুয়েশন বদল হতে পারে।” আর এখানেই প্রশ্ন, তাহলে কি ভবিষ্যতে হুমায়ুনবাবু আবার সুর বদল করতে পারেন? বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তৃণমূলকে বিদায়ের ক্ষেত্রে? দিলীপবাবু যে ইকুয়েশন বদলের কথা বলছেন, সেই ইকুয়েশনের সঙ্গে হুমায়ুনবাবুর পরবর্তী রাজনৈতিক রননীতি যদি মিলে যায়, তাহলে কোন পথে গড়ায় বঙ্গ রাজনীতি, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
