Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নেতাজিকে অপমানের জের! বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করল রাজ্য!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়লেন গ্রেটার কোচবিহার নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হতেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মাননাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তদানীন্তন সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে রাজ্যের এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে এই সম্মাননা বাতিল ঘোষণা করা হলো।

এই বড় সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি। সম্প্রতি বিধানসভা ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বাংলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনো রকম কুৎসা, কুরুচিকর বা অসম্মানজনক মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ ও প্রশাসনকে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পরেই এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান কেড়ে নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবান্ন।সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সম্মাননা প্রদানের পর এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সামনে এসেছে যা এই সম্মানের মর্যাদা, গৌরব এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। এর ফলে অনন্ত মহারাজ আর কোথাও নিজেকে বঙ্গবিভূষণ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না এবং সমস্ত সরকারি তালিকা থেকেও তাঁর নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে অনন্ত মহারাজ দাবি করেছিলেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন বা পরিচালনার কোনো স্বাধীন ক্ষমতাই ছিল না। তিনি মন্তব্য করেন, “আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনারা আসলে ব্রিটিশ বা বিদেশী বাহিনীর অংশ ছিল।” শুধু তাই নয়, নেতাজিকে নিয়ে তাঁর বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্য সামনে আসতেই সারা বাংলা জুড়ে ফরোয়ার্ড ব্লকসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের পর খোদ বিজেপির অন্দরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজিকে নিয়ে এমন ইতিহাস-বিকৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নেওয়া তো অত্যন্ত স্বাভাবিক পদক্ষেপ, ওঁর এই ধরনের মন্তব্যের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” অন্যদিকে, এই বিষয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্টে সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) মামলার আবেদন করা হলে প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্তের বেঞ্চ বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই মেগা সিদ্ধান্তের পর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Exit mobile version