Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এবার টুলুর শ্বশুরবাড়িতে এসটিএফ! বীরভূমের ‘স্টোন কিং’-এর গোপন ডেরায় হানা দিয়ে তাজ্জব পুলিশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের পাথর ও বালি মাফিয়া রাজের অলীক সাম্রাজ্য আজ যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তা এই বাংলার অপরাধের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার নগদ ও সোনা উদ্ধারের পর যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এফআইআরের নথি চেয়ে পাঠিয়েছে, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিল রাজ্য প্রশাসন। আজ কাকভোরে বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী তথা ‘স্টোন কিং’ টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতে অতর্কিতে হানা দিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে টুলুর অন্যান্য আত্মীয়দের একাধিক গোপন ডেরাতেও। তদন্তকারীদের দাবি, এই চিরুনি তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের নামে ও বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলতে শুরু করেছে, যা দেখে খোদ দুঁদে অফিসারদেরও চোখ চড়কগাছ।

কয়লা কিংবা গরুপাচার মামলার ছায়া এবার বীরভূমের পাথর ও বালি খাতের ওপর। পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই টুলু এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল এসটিএফ। গোপন সূত্রে খবর আসে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে এবং বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও সম্পত্তির দলিল সরাতে নিজের শ্বশুরবাড়ি ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ঘরকে ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহার করছেন এই স্টোন কিং। আজ সকালে এসটিএফের বিশাল বাহিনী বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে থাকা টুলুর শ্বশুরবাড়ি ও অন্যান্য আত্মীয়দের বাড়ি একযোগে ঘিরে ফেলে। ভেতরে ঢোকার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। আলমারি, লকার থেকে শুরু করে ঘরের মেঝে ও দেওয়াল—বাদ যাচ্ছে না কিছুই।

প্রশ্ন উঠছে, একজন পাথর ব্যবসায়ী কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যে বীরভূমের অলিখিত ‘কিং’ হয়ে উঠলেন এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনদের সাধারণ বাড়িগুলো রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির দলিলে ভরে উঠল? এসটিএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আজকের এই তল্লাশি অভিযানে একাধিক ডেরা থেকে প্রচুর পরিমাণ বেনামি জমির খতিয়ান, বিলাসবহুল গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, মহম্মদবাজার এবং রামপুরহাট অঞ্চলের পাথর খাদানের বেআইনি সিন্ডিকেট ও মাফিয়া রাজের মাধ্যমে যে বিপুল কালো টাকা রোজগার করা হয়েছিল, তা এই আত্মীয়দের নামেই বিভিন্ন জায়গায় ‘লন্ডারিং’ বা সাদা করার চেষ্টা চলছিল।

টুলু মণ্ডলের এই বিপুল সম্পত্তি ও টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গতকালই ইডি (ED) পুলিশের থেকে সমস্ত নথি ও এফআইআরের তথ্য তলব করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা মামলাটি পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার আগেই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ যেভাবে আসরে নেমে পড়ল, তার পেছনে এক গভীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রণকৌশল রয়েছে। রাজ্য পুলিশ দেখাতে চাইছে যে, বীরভূমের এই খনিজ মাফিয়াদের ডানা ছাঁটতে তারাই যথেষ্ট।আমজনতা বিগত দিনে একের পর এক নেতার বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় বেরোতে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ি ও আত্মীয়দের এই গোপন আস্তানাগুলো থেকে শেষ পর্যন্ত আর কত কোটি টাকা বা বেনামি সম্পত্তির দলিল উদ্ধার হয় এবং এই কালো টাকার জাল রাজনীতির কোন কোন রাঘববোয়ালের ঘর পর্যন্ত পৌঁছায়—তা সময়ই বলবে।

Exit mobile version