প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সব সময় গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করে থাকেন। এর আগেও তিনি এমন একাধিক কাজ করেছেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি যে কাণ্ডকারখানা ঘটিয়েছেন এই রাজ্যের বুকে, তা অতীতের সমস্ত ঘটনাকে ম্লান করে দিয়েছে। যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করছে, সেখানে তিনি আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে গিয়ে বেশ কিছু ফাইল এবং নথিপত্র সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে গোটা বিষয়টি গেলে সেখানে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শুধু ফাইল এবং নথিপত্র নয়, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইডি আধিকারিকের মোবাইল ফোন পর্যন্ত নিয়ে চলে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় থেকেই বিরোধীরা স্লোগান তুলতে শুরু করে, “মোবাইল চোর মমতা।” আর এবার প্রকাশ্য সভা থেকে সেই কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস্টিজ পাংচার করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে যখন তল্লাশি চলছে, তখন সেখানে পৌঁছে গিয়ে তার দলের নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে বেশ কিছু নথিপত্র নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে গোটা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টে যে শুনানি হয়েছে, সেখানে ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, শুধুমাত্র তাদের নথিপত্র নয়, এক ইডি আধিকারিকের মোবাইল ফোন পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই খবর শোনার পরেই বাংলা ও বাঙালির লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার প্রকাশ্য সভা থেকে সেই বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে আরও চাপের মুখে ফেলে দিলেন তিনি।
এদিন হাওড়ার বাগনানে পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “কিছুদিন আগেই দেখলাম, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সদর্পে, সগর্বে, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, সিপি মনোজ ভার্মা এবং ডিজি রাজীব কুমারকে নিয়ে ইডির ওপরে হামলা করলেন। বেরিয়ে এসে বললেন, আমি ফাইল চুরি করে নিয়ে এলাম, আমি ল্যাপটপ ছাড়িয়ে নিয়ে এলাম। তারপরে সুপ্রিম কোর্টে লাইভ দেখলাম। ইডির আইনজীবী বলছেন, শুধু ফাইল নেয়নি, আমাদের মোবাইল ফোনও চুরি করে নিয়ে চলে গিয়েছে এই রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। তাই বলা যেতেই পারে, জেনে গেছে জনতা, মোবাইল চোর মমতা।”
