Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

অমিত শাহের মুখোমুখি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: দিল্লিতে শাহী-সাক্ষাৎ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা, কোন পথে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনোত্তর আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। সমস্ত জল্পনা সত্যি করে শনিবার দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ঘটে গেল এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ আলোচনার পর, এবার সরাসরি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দরবারে পৌঁছে গেলেন লোকসভায় তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আর এক দলীয় সাংসদ শতাব্দী রায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শনিবার দুপুরের পর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে। দলীয় সূত্রের খবর, সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে চড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পৌঁছে যান বিজেপির শীর্ষনেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের মোতিলাল নেহরু মার্গের বাসভবনে। সেখানে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। তবে চমকের এখানেই শেষ ছিল না। বৈঠক শেষ হতেই ভূপেন্দ্র যাদব নিজে দুই সাংসদকে নিয়ে সোজা হাজির হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। লোকসভার দীর্ঘদিনের দলনেতার এই পদক্ষেপ ঘিরেই এখন কলকাতার রাজনীতিতে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দিল্লির রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের একাংশ সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বের একাংশ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা ‘ব্লক’ হিসেবে বসার আবেদন জানাতে পারেন। রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা, এই বিক্ষুব্ধ শিবিরের একটি অংশ সংসদে এনডিএ (NDA) জোটকে বাইরে থেকে সমর্থনের পথও বেছে নিতে পারে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের এই শাহী-সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই বিষয়ে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

দিল্লিতে যখন এই বৈঠক চলছে, তখন কলকাতায় বিরোধী শিবিরের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল স্তরের ফাটল ঢাকতে ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে কালীঘাটে এক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক মহলের একটি সূত্রের দাবি, বেশ কিছু বিধায়ক সুকৌশলে এই বৈঠক এড়িয়ে গেছেন। যদিও দলের একাংশের দাবি, বহু বিধায়ক সাংগঠনিক কারণেই এই বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি এবং দলের রাশ এখনও শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই মজবুত রয়েছে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের খবর সামনে আসতেই দলের বাকি অংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একে ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ একে “চরম বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রণকৌশল স্থির করতেই সাংসদদের এই অংশটি দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী অবস্থানই স্পষ্ট করবে বাংলার রাজনীতির জল কোন দিকে গড়ায়।

Exit mobile version