Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম সংঘাতের মেঘ! সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে মোদি সরকারের ঐতিহাসিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’, কাঁপছে আন্তর্জাতিক বাজার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের বিপুল চাহিদা এবং চড়া দামের প্রলোভনকে দূরে সরিয়ে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রফতানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্র। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি কড়া ও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হওয়া তীব্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের সংকটের জেরে সমগ্র বিশ্ব-অর্থনীতি টালমাটাল। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ভেঙে পড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক মন্দার আঁচ যাতে ভারতের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের রান্নাঘরে না পৌঁছায়, তার জন্যই মোদি সরকার এই ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ বা ‘দেশ আগে’ নীতি গ্রহণ করেছে।

খাদ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, ভারতে উৎসবের দিনগুলিতে চিনির চাহিদা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশ্ববাজারে চিনির ঘাটতি থাকায় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা চড়া দামে ভারতের চিনি কিনে নেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। যদি এই সময় অবাধ রফতানি চলত, তবে দেশের ভাঁড়ারে টান পড়ত এবং ভারতের বাজারে চিনির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে:১) দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির জোগান সম্পূর্ণ উদ্বৃত্ত থাকবে।২) উৎসবের মরসুমে খুচরো বাজারে চিনির দাম থাকবে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। ৩) কৃত্রিম কালোবাজারি বা মজুতদারির কোনো সুযোগ থাকবে না।

তবে এই কঠোর সিদ্ধান্তের মধ্যেও ভারত তার আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি দায়িত্ব ভোলেনি। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং আমেরিকার (USA) ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত কোটাভিত্তিক চিনি রফতানি ব্যবস্থা চালু থাকবে। এর ফলে বিশ্বমঞ্চে ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আরও মজবুত হলো। বিশেষজ্ঞ মহলের স্পষ্ট মত, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে মাথায় রেখে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ।

Exit mobile version