প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরের সেই হাড়হিম করা ঘটনার প্রধান অভিযুক্তের শেষ পরিণতি ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। তদন্তের স্বার্থে গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই এই গোটা বিষয়টিতে এক নতুন বিতর্কিত মাত্রা যোগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বীরভূমের এক খ্যাতনামা মন্দিরে পুজো দিতে এসে এই পুলিশি পদক্ষেপের পক্ষে এমন এক বিস্ফোরক যুক্তি খাড়া করলেন তিনি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
তদন্তকারী দলের দাবি, রাতের অন্ধকারে অপরাধের পুনর্নির্মাণ এবং অস্ত্র উদ্ধারের সময় ধৃত অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। ঠিক এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, খোদ রক্ষকদের লক্ষ্য করে যদি কেউ অবলীলায় গুলি ছুঁড়তে শুরু করে, তবে আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বা তাকে শান্ত করতে কোনও মিষ্টি উপহার দেবে না! আইন ভাঙার চেষ্টা করলে যে এমন চরম পরিণতি অনিবার্য, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট ধরা পড়েছে তাঁর বয়ানে।
সুকান্তবাবু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বামপন্থী ও অন্যান্য বিরোধী শিবিরের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, একদল মানুষ এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কেবল লাশের রাজনীতি করতেই ব্যস্ত এবং এলাকায় এক অদ্ভুত উস্কানিমূলক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একদিকে যখন পুলিশি এনকাউন্টার নিয়ে মানবাধিকার ও আইনি প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই সুকান্ত মজুমদারের এই প্রচ্ছন্ন সমর্থন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
