Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

নেতৃত্বের অহংকারেই কি ডুবল জোড়াফুল? ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলকে তীব্র তোপ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্তের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নবান্ন হাতছাড়া হয়েছে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ১৫ বছরের চেনা রাজনৈতিক দুর্গ! তবুও কি শিক্ষা হলো না শীর্ষ নেতৃত্বের? রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল যখন কার্যত দিশেহারা, ঠিক তখনই তাদের সেই ক্ষতে আরও একবার রাজনৈতিক নুন ছিটিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। স্পষ্ট ভাষায় তিনি দাবি করেছেন— দলটার আজকের এই নজিরবিহীন সংকটের জন্য অন্য কেউ নয়, দায়ী খোদ তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব!

রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন— তবে কি নিচুতলার ক্ষোভকে পাত্তা না দিয়ে যে ‘হাইটেক’ রাজনীতি চলছিল, তার খেসারতই দিতে হলো ভোটবাক্সে? সুকান্ত মজুমদারের এই আক্রমণাত্মক বয়ান আসলে সেই বাস্তবকেই সামনে এনেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও চর্চা চলছে। নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ভুরি ভুরি দুর্নীতি— সবকিছুকে যেভাবে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল, ভোটাররা তার জবাব দিয়েছেন। সুকান্ত বাবুর ইঙ্গিত অত্যন্ত স্পষ্ট— এসি ঘরে বসে যে চালনা করা হচ্ছিল, বাংলার মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দল ক্ষমতাচ্যুত হতেই যে তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে, তা এই ব্যর্থতারই প্রমাণ।

সুকান্ত মজুমদার এখন দিল্লির দরবারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে তাঁর এই প্রতিটি রাজনৈতিক তির এখন অনেক বেশি ওজনদার। একদিকে যখন অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে তৃণমূল নেত্রীকে তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটতে হচ্ছে, ঠিক তখনই সুকান্ত বাবুর এই মন্তব্য বিরোধী শিবিরের বিড়ম্বনা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ক্ষমতা হারানোর পর দল সামলাতে তড়িঘড়ি যুব ও ছাত্র কমিটি ভাঙা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজনৈতিক বাণ বুঝিয়ে দিল— যে নেতৃত্বের কারণে দল নবান্ন থেকে ছিটকে গেছে, তাদের ওপর থেকে কর্মীদের আস্থা ফেরানো এখন কার্যত অসম্ভব।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ ক্ষমতা হারানো বিরোধী শিবিরের অন্দরের চাপানউতোরকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এখন দেখার, সুকান্ত মজুমদারের এই বিস্ফোরক দাবির জবাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী সাফাই দেওয়া হয়।

Exit mobile version