Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উৎসবের মরশুমে নজিরবিহীন চমক! হঠাৎ কেন দেবের দরজায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার? তুঙ্গে জল্পনা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের আবহে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে এক অত্যন্ত চমকপ্রদ ও নজিরবিহীন সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল। আজ, মঙ্গলবার বিকেলে, ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের আরবানার ফ্ল্যাটে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। দেবের ব্যক্তিগত বাসভবনের গণেশ পুজো উপলক্ষে এই দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি সাক্ষাৎ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও অভিনেতা-প্রযোজক দেব নিজের বাসভবনে ধুমধাম করে গণেশ আরাধনার আয়োজন করেছেন। আর সেই উৎসবেরই দ্বিতীয় দিনে, দেবের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সশরীরে তাঁর ফ্ল্যাটে হাজির হন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যও।

দেবের আরবানার ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পর সুকান্ত মজুমদার নিষ্ঠাভরে গণপতির আরতি ও পুজো করেন। এরপর হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে সজ্জ্বিত দেব এবং তাঁর বাবা গুরুপদ অধিকারীর সাথে বেশ কিছুক্ষণ সোফায় বসে খোশমেজাজে দীর্ঘ আলোচনা করতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। ভেতরের সূত্র মারফত জানা গেছে, এই ঘরোয়া আড্ডায় মূলত আসন্ন দুর্গাপুজো এবং সিনেমা সংক্রান্ত বিনোদনমূলক নানান প্রসঙ্গের কথাই উঠে এসেছে। এমনকি সুকান্ত মজুমদার তাঁর আসন্ন থিয়েটার নাটক ‘কেশরী হত্যা?’, যেখানে তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা নিয়েও অভিনেতা দেবের সাথে বেশ কিছুক্ষণ নিজের অভিজ্ঞতা ও অভিনয় নিয়ে চর্চা করেন।

সাক্ষাৎ পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা চাল নেই। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ধর্মীয় বা উৎসবের অনুষ্ঠানকে সবসময় রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। দেবের সাথে আমার সম্পর্ক আজকের নয়, বহু পুরনো। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় দেব যখন বালুরঘাটে প্রচারে গিয়েছিল, তখন মঞ্চ থেকে ও বলেছিল যে ভাল ব্যক্তি সেই জিতবে। আমার ওর সেই উদারতা খুব ভাল লেগেছিল। ওঁর বাড়ি থেকে পুজোর যে আন্তরিক আমন্ত্রণ এসেছিল, সেই সৌজন্য রক্ষা করতেই আমি এখানে এসেছি। তাই দয়া করে এই পবিত্র উৎসবের মধ্যে কেউ কোনও রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করবেন না।” পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আবহে দলমত নির্বিশেষে এই ধরণের হাইপ্রোফাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ যে এক সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির নজির গড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version