Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“সুপার গড হয়ে গিয়েছে, মে মাসে চেয়ারে থাকবেন তো?” জ্ঞানেশ কুমারকে এ কোন আক্রমণ মমতার?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- জ্ঞানেশ কুমার এবং দেশের নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে, তাতে প্রবল অস্বস্তিতে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের কোনো রকম অন্যায় আবদার যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুনছেন না, তা বুঝেই এখন তাকে আক্রমণের রাস্তায় নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন নির্বাচন কমিশনকে যা খুশি তাই বলে আক্রমণ করতে দেখা যেত তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের। সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ওই পদে না থাকলে আঙ্গুল কেটে নিতেন বলে মন্তব্য করেছেন। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তার ফুল বেঞ্চ নিয়ে যখন রাজ্যে এসেছেন, যখন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ভাবে পরিচালনা করতে একের পর এক কড়া বার্তা দিচ্ছেন, তখন মঞ্চ থেকে সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও চিড়ে ভেজেনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অন্যায় এখানে চলবে না। এসআইআরকে আটকানোর যে কাজ এই রাজ্যের শাসক দল প্রশাসনকে দিয়ে করছে, সেই সমস্ত খবর যে তার কাছে রয়েছে, তা সকলেই খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন। আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনিক সঙ্গে বৈঠকেও ভোটে হিংসা যাতে না হয়, তার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন। আর নির্বাচনে যখন অনিয়ম করা যাবে না, যখন এবার নির্বাচন অন্যভাবে করতে চাইছে কমিশন, সেটা তৃণমূল বুঝে গিয়েছে, তখন আর অন্য কোনো উপায় না বুঝে এখন সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেই টার্গেট করতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের সভা থেকেও তিনি যে সমস্ত কথা বললেন, তাতে রীতিমত তাজ্জব বনে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিন এসআইআরের প্রতিবাদে ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সুপার গড হয়ে গিয়েছে। স্পাইডার ম্যান হয়ে গিয়েছে। ভয় দেখানোর মাস্টার। মে মাসে আপনি চেয়ারে থাকবেন তো? আগে সেটা দেখুন। তারপর বাংলার মানুষকে থ্রেট করবেন।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন যে, এই নির্বাচন কমিশনকে তিনি ম্যানেজ করতে পারবেন না। তারা স্বচ্ছভাবে ভোটের পক্ষে। আর সেই জন্য তারা যে যে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়, সেই সমস্ত পদক্ষেপ নেবেন। আর অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে না, তা বুঝতে পেরেই এখন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রীতিমত হুমকি দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।

Exit mobile version