প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার (২৩শে মার্চ, ২০২৬) গভীর রাতে কমিশনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (1st Supplementary Electoral Roll) প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার পর এই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে যে সমস্ত ভোটারদের নাম এই প্রকাশিত তালিকায় নেই, তাদের জন্য আশার আলো জাগিয়ে কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে গঠন করা হচ্ছে ১৯টি শক্তিশালী অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল (Appellate Tribunal)।
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে এক নজিরবিহীন যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলছিল। রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘Under Adjudication’ বা বিচারিক পর্যালোচনার অধীনে রাখা হয়েছিল। মূলত ভুয়া ভোটার চিহ্নিত করা এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই জেলা জজ পদমর্যাদার অফিসারদের দিয়ে এই বিশেষ স্ক্রুটিনি চালানো হয়। সোমবার রাত ১১:৫৫ মিনিট নাগাদ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের ফলাফল অর্থাৎ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট আপলোড করা হয়েছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইটও এই তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে।
কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন আবেদনের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ লক্ষ কেসের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই নিষ্পত্তিকৃত আবেদনকারীদের মধ্যেই যারা যোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছেন, তাদের নামই এই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাকি প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন এখনও প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। ফলে যাদের নাম এই দফায় তালিকায় ওঠেনি, তাদের ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই; কারণ আগামী দিনে আরও কয়েকটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা প্রবল।
যাদের আবেদন কোনো কারণে খারিজ হয়েছে অথবা যাদের নাম এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নেই, তাদের জন্য কমিশন ১৯টি অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলো মূলত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে যাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তবে তিনি প্রয়োজনীয় নথিসহ এই ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলাভিত্তিক এই ট্রাইব্যুনালগুলোর ঠিকানা ও কাজ শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ভোটাররা কী করবেন?
ভোটারদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তারা যেন অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সার্ভিস পোর্টাল (voters.eci.gov.in) অথবা পশ্চিমবঙ্গ সিইও-র ওয়েবসাইট (ceowestbengal.wb.gov.in)-এ গিয়ে নিজেদের নাম ও বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেন। এছাড়াও স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা জেলা নির্বাচনী অফিসে গিয়েও তালিকার হার্ড কপি দেখে নেওয়া যাবে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আদতে রাজ্যের ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার এক বড় প্রচেষ্টা। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হচ্ছিল, যার প্রেক্ষিতে এই নিবিড় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯টি অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার শেষ সুযোগটি দিচ্ছে কমিশন। তাই তালিকায় নাম না থাকলেও এখনই চিন্তিত না হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।
