প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর নির্বাচন যাতে বিন্দুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া দাওয়াই দিল কমিশন। সোমবার রাতের এই গণ-বদলি স্পষ্ট করে দিল যে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো রকম আপস করতে নারাজ নির্বাচন সদন। কেন এই হঠাৎ পদক্ষেপ?
রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের কাজ (Special Intensive Revision) শেষ হওয়ার পর প্রথম পরিপূরক বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কথা ছিল গতকাল। কিন্তু তার ঠিক আগেই দেখা গেল, রাজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ রিটার্নিং অফিসারকে একযোগে বদলে দেওয়া হয়েছে। মূলত মহকুমা শাসক (SDO/SDM) পদমর্যাদার এই অফিসাররাই গ্রাসরুট লেভেলে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনের দায়িত্ব সামলান। অভিযোগ উঠছিল, অনেক জায়গাতেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকছে না। সেই অভিযোগের জেরেই কি এই বিশাল রদবদল? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
কমিশনের এই বদলির তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছে সংবেদনশীল জেলাগুলি।
উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই দুই জেলা থেকে সর্বোচ্চ ১৭ জন অফিসারকে সরানো হয়েছে। নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ১০ জন অফিসার বদলি হয়েছেন। কোচবিহার, সিতাই ও দিনহাটা সহ উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের সীমান্তবর্তী কেন্দ্রগুলোতেও রদবদল হয়েছে।
কমিশন সাফ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া অফিসারদের মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় তাঁদের বিশেষ ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের বদলির পর এবার সরাসরি ফিল্ড অফিসারদের ওপর এই কোপ আসায় নবান্নের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ মহল এই সিদ্ধান্তকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা প্রকাশের ঠিক আগে অভিজ্ঞ অফিসারদের সরানো মানেই প্রশাসনিক কাজে বাধা তৈরি করা। অন্যদিকে, বিজেপি ও বিরোধী শিবির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করতে এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক অত্যন্ত জরুরি ছিল।”
সব মিলিয়ে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের ঠিক আগে ৭৩ জন অফিসারের এই বিদায় কি ২০২৬-এর ভোটের গতিপথ বদলে দেবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
