Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কমিশনার পদ থেকে বিদায় কি শুধুই ‘ট্রেলার’? সুপ্রতিমকে এবার কি আরও বড় ‘ধাক্কা’ দিল নির্বাচন কমিশন?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে অপসারণই কি শুরু? সুপ্রতিম সরকারের জন্য কি আরও বড় কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ তুলে রেখেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন? সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কলকাতার তখত থেকে সরানোর পর এবার সুপ্রতিম সরকারকে সরাসরি ভিনরাজ্যে (তামিলনাড়ু) পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আর এই নির্দেশ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার শাসকদলের অত্যন্ত ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সন্দেশখালি কাণ্ড এবং রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারেবারে সরব হয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার অভিযোগ তুলেছিলেন যে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বদলে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মহলের নির্দেশ পালনেই বেশি আগ্রহী ছিলেন এই আইপিএস কর্তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এবার নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। কমিশনার পদ থেকে সরানোর পর তাঁকে ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে কার্যত বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার এই কৌশলকে অনেকেই কমিশনের ‘কড়া দাওয়াই’ হিসেবে দেখছেন।

কমিশন যখনই ভিনরাজ্যে গিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিল, তখনই নাটকীয় মোড় নিল পরিস্থিতি। সূত্রের খবর, সুপ্রতিম সরকার ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ বা শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে সিইও (CEO) দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এটা আসলে কমিশনের কড়া নজরদারি এড়িয়ে রাজ্যে থাকার একটা ‘কৌশল’ মাত্র। যখনই কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখনই কি এভাবে অসুস্থতার ঢাল ব্যবহার করে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে? প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

সন্দেশখালির উত্তাল পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তখন থেকেই বিরোধী শিবিরের আতসকাঁচের তলায় ছিলেন এই অফিসার। অভিযোগ উঠেছিল, নির্দিষ্ট অপরাধীদের আড়াল করার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাঁকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। এবার কমিশনার পদ থেকে সরিয়েও ক্ষান্ত না হয়ে তাঁকে সরাসরি ভিনরাজ্যে পাঠানোর যে ছক দিল্লি কষেছে, তাতে কার্যত সুপ্রতিম সরকারের প্রশাসনিক ভাবমূর্তি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সুপ্রতিম সরকার তাঁর অসুস্থতার কথা জানিয়ে যে আবেদন করেছেন, তা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশন যদি এই কারণকে ‘যৌক্তিক’ মনে না করে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে বল এখন কমিশনের কোর্টে। ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে পরিচিত এই আইপিএস কর্তার আবেদন কমিশন গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Exit mobile version