Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সুপ্রিম কোর্টের চরম তলব! ভোটার তালিকা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা জমার কড়া নির্দেশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটার তালিকা সংশোধন মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)-কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আইনি নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির জটিলতা কাটাতে গঠিত বিশেষ অ্যাপেল ট্রাইব্যুনালগুলিতে ঝুলে থাকা লক্ষ লক্ষ আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। একই সাথে, ট্রাইব্যুনালগুলির বর্তমান কাজের গতি এবং ঝুলে থাকা আপিল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়ে হলফনামা (Affidavit) আকারে রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল, ২৫ আগস্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার), সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত এই হলফনামা ও রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

ডিভিশন বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী শুনানিতে স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে কারোর নাম বাদ যাওয়ার অর্থ হলো তাঁর গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। তাই যে সমস্ত যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আপিল বা আবেদনগুলি সবার আগে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।” সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগেই এই সমস্ত ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে ফেলতে হবে। কোনো নাগরিক যাতে আইনি জটিলতার কারণে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের।

শুনানি চলাকালীন আদালতে পেশ হওয়া তথ্যে এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। তথ্যে জানা যায়, ট্রাইব্যুনালগুলিতে মোট ৩৮.১ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮৩,০০০টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে যে ট্রাইব্যুনালগুলিতে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই (প্রায় ৩১ লক্ষ) নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে নয়, বরং ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে করা হয়েছে। মাত্র ৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে এমন নাগরিকদের তরফে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাতে এই ৭ লক্ষ বাদ পড়া নাগরিকদের আবেদন আগে খতিয়ে দেখে তাঁদের তালিকাভুক্ত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।

Exit mobile version