Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সুপ্রিম কোর্টে আজ অগ্নিপরীক্ষা! জ্ঞানেশ কুমার বনাম বিরোধী জোটের মেগা মামলায় কোন বড় নির্দেশের পথে শীর্ষ আদালত?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার—সব মিলিয়ে আজ ভারতের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও হাইপ্রোফাইল দিন। আজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার), সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র তিন বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে উঠতে চলেছে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর মামলা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের করা মামলা থেকে শুরু করে দিল্লিতে আন্দোলনের দিন মেট্রো-ট্রেন বন্ধ রাখা ও আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ—সবকটি মামলারই আজ চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বিচারপতি ভি. মোহনা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় সব পক্ষের সম্মতিতে শুনানি পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। আজ সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ ইন্ডি (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতাদের দায়ের করা প্রধান মামলাটি রয়েছে আজ তালিকার শীর্ষে।
ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি ও নোট উড়িয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। রাহুল গান্ধী আদালতে আবেদন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে হওয়া সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সমস্ত ফাইল, এজেন্ডা, কার্যবিবরণী (Minutes) এবং আপত্তি সংক্রান্ত নোটগুলি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হোক। ইতিপূর্বেই শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করেছিল, যার চূড়ান্ত এফিডেভিট আজ কেন্দ্রের পেশ করার কথা।

গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া মেগা আন্দোলনের দিন দিল্লির গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায় স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ তার আগের দিনই (৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে সুরক্ষার কারণে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও কোনোভাবেই মেট্রো বা রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত করার অভিযোগে শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কেন্দ্র ও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার (Contempt of Court) রুল জারি করে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই দিল্লি মেট্রোর চেয়ারপার্সন ডি. থারা সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে শর্তহীন ক্ষমা চেয়েছেন। ডিএমআরসি-র দাবি, কোনো ট্রেন বাতিল করা হয়নি এবং ৮৫ শতাংশ নেটওয়ার্ক সচল ছিল। আজ শীর্ষ আদালত এই ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করে নাকি কড়া পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

১০ অক্টোবরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিরোধী দল ও সাধারণ ছাত্র-যুবদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা, হেনস্থা করা এবং কর্তব্যরত আইনজীবী ও মহিলা সাংবাদিকদের ওপর দিল্লি পুলিশের অতর্কিত বলপ্রয়োগ ও মারধরের অভিযোগ নিয়ে একাধিক হেবিয়াস কর্পাস ও ফৌজদারি পিটিশন জমা পড়েছে। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং নারীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগের জবাব দিতে ইতিমধ্যেই আজ দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিককে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে চলা এই তীব্র আন্দোলনের আবহে সুপ্রিম কোর্টের আজকের পর্যবেক্ষণ ও রায় দিল্লির পুলিশি ব্যবস্থা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের ভোল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।

Exit mobile version