Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সংসদে তীব্র কম্পন! তৃণমূলত্যাগী সুদীপ-সায়নীসহ ২০ বিদ্রোহী সাংসদকে চরম নোটিস সুপ্রিম কোর্টের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অমান্য করার অভিযোগে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কড়া নজরে সংসদের ২০ জন হাইপ্রোফাইল জনপ্রতিনিধি। লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের জেরে শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) সেই মেগা মামলার শুনানিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২ সপ্তাহ পর এই ঐতিহাসিক মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেই সময়ের মধ্যে সমস্ত বিদ্রোহী সাংসদকে নিজেদের জবাব দাখিল করতে হবে।

তৃণমূলের পক্ষে দায়ের করা রিট পিটিশনে (W.P.(C) No. 1033/2026) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে এবং জোড়াফুল চিহ্নে জয়ী হয়ে লোকসভায় এসেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা দলবিরোধী কাজ করে ত্রিপুরা-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেন। তৃণমূলের আইনি সেলের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীকে জিতে অন্য দলে চলে যাওয়া সংবিধানের দশম তফসিলের দলত্যাগ বিরোধী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পদ অবিলম্বে খারিজ করা হোক।

বাদল অধিবেশন কেটে গেলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পদ খারিজের আবেদনের ওপর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ তোলে তৃণমূল। উল্টে সংসদে তাঁদের এনসিপিআই (NCPI) গোষ্ঠী হিসেবে পৃথক বসার আসন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তাঁরা এনডিএ (NDA)-র সংসদীয় কার্যকলাপে অংশ নিচ্ছেন। আজ শুনানির সময় কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, লোকসভার স্পিকারের দফতর ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ওই সাংসদদের নোটিস পাঠিয়েছে। এর পরেই সুপ্রিম কোর্ট স্পিকারের দফতরকে আলাদা করে নোটিস না পাঠিয়ে, সরাসরি অভিযুক্ত ২০ জন সাংসদকে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য নোটিস জারি করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্পিকারের দপ্তরের এই প্রক্রিয়া যেন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী নোটিসের তালিকায় থাকা ২০ জন তৃণমূলত্যাগী সাংসদ হলেন:১. সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay) ২. কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) ৩. শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) ৪. প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Banerjee) ৫. রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee) ৬. সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh) ৭. দীপক অধিকারী – দেব (Adhikari Deepak Dev) ৮. জুন মালিয়া (June Maliah) ৯. ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan) ১০. পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmick) ১১. সজল ঘোষ (Jagadish Chandra Barma Basunia) ১২. অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty) ১৩. বাপি হালদার (Bapi Haldar) ১৪. মহম্মদ আবু তাহের খান (Md Abu Taher Khan) ১৫. কালিপদ সরেন খেরওয়াল (Kalipada Saren Kherwal) ১৬. অসিত কুমার মাল (Asit Kumar Mal) ১৭. মিতালী বাগ (Mitali Bag) ১৮. খলিলুর রহমান (Khalilur Rahaman) ১৯ মালা রায় (Mala Roy) ২০. শর্মিলা সরকার (Sharmila Sarkar)। বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একযোগে দল ছাড়ায় এটি আইনসম্মত মার্জার বা সংযুক্তিকরণ, যা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আসে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নোটিসের পর আগামী দুই সপ্তাহে দিল্লির দরবারে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

Exit mobile version