Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আর কোনো পথ রইল না! সুপ্রিম কোর্টের এই এক নির্দেশে আসন্ন পুরভোটে মস্ত বড় সংকটে মমতা শিবির!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে এক বিরাট ধাক্কার মুখে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। দলের ভাঙন ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার টানাপোড়েনের মাঝে উপনির্বাচনের পর এবার আসন্ন পুরভোটেও ইভিএম (EVM) থেকে সম্পূর্ণ গায়েব থাকছে ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ (ঘাস-ফুল) চিহ্ন। নির্বাচন কমিশনের (ECI) দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে সোমবার শীর্ষ আদালত তাৎক্ষণিক স্বস্তি না দিয়ে পুরো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বমোট ৪ মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুরভোটের আগে অলৌকিক উপায়ে জোড়াফুল প্রতীক ইভিএম-এ ফিরছে না।

নাম ও প্রতীকের আসল মালিকানা কার—এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে। শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অংশ নেন। আদালত তার রায়ে জানিয়েছে: আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী—উভয় পক্ষকেই তাদের সমস্ত লিখিত নথিপত্র, হলফনামা ও পাল্টা প্রমাণাদি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা করতে হবে। এই লিখিত প্রক্রিয়া (Pleadings) সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এই দলীয় নাম ও প্রতীকের বিরোধ নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা ঘোষণা করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শুনানির জন্য আরও বেশি সময় দাবি করলেও, শীর্ষ আদালত তা সরাসরি খারিজ করে সর্বমোট ৪ মাসের ডেডলাইন সুনিশ্চিত করে। অর্থাৎ আগামী বছরের শুরুর আগে কোনোভাবেই ইভিএম-এ জোড়াফুল ফিরছে না।

নির্বাচন কমিশনের আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকায়, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে দুটি পক্ষকে সম্পূর্ণ ভিন্ন নাম ও ভিন্ন প্রতীকে লড়তে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘ফুটবলার’ (Football Player) বা খেলোয়াড় চিহ্নে এবং নির্বাচন কমিশনের খাতায় তাদের বর্তমান নাম নিবন্ধিত রয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (MAITC) হিসেবে। দলছুট বিদ্রোহী শিবির ভোটের ময়দানে নামছে ‘খাম’ (Envelope) প্রতীক নিয়ে। তৃণমূলে ভাঙন ধরতেই নাম ও প্রতীকের দাবি জানিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে যে চরম আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের এই ৪ মাসের ডেডলাইনের পর তা যে পুরভোটের আগে মিটছে না, তা এখন সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

Exit mobile version