প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুমের মাঝেই বিরাট আইনি ও আর্থিক ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও, সেখানে মিলল না কোনও স্বস্তি। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই মামলায় কোনো রকম অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপ করবে না। শীর্ষ আদালত মামলাটিতে হস্তক্ষেপ না করে তা পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গাপূজার ঠিক মুখে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার কারণে দলের দৈনন্দিন খরচ, প্রচার এবং সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানো নিয়ে চরম মহাবিপত্তিতে পড়তে চলেছে মমতার দল।
আয়কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়ে দ্রুত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি এক্তিয়ার ও পদ্ধতি মেনে প্রথমে হাইকোর্টেই শুনানি হওয়া বাঞ্ছনীয়। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে সরাসরি কোনো নির্দেশ না দেওয়ায় এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে আইনি স্বস্তির জন্য পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের দরজাই কড়া নাড়তে হবে, যা দলটির আইনি লড়াইকে আরও দীর্ঘায়িত করল।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। নামের মিল থাকার কারণে দুই দলের অনুগামীদের মধ্যে সকাল থেকেই তীব্র উত্তেজনা ছিল। মমতার দলের এই ধাক্কায় স্বস্তি প্রকাশ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এক বিবৃতিতে জানায়, “আইন নিজের পথেই চলবে। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।” সব মিলিয়ে, হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি ও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই মেগা লড়াই এখন দিল্লির অলিন্দ থেকে ফের কলকাতার হাইকোর্ট চত্বরে ফিরে এল, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
