প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৭ হাজার ‘যোগ্য’ ও নির্দোষ শিক্ষকের জন্য এক বিরাট এবং স্বস্তিদায়ক নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল, ৩১ অগস্ট ২০২৬ (সোমবার) এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত (আরও প্রায় ৯ মাস) এই সমস্ত শিক্ষকেরা নিজেদের পদে বহাল থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং যথারীতি বেতন পাবেন।শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, “এটাই শেষবার। আর কোনও অবস্থাতেই সময়সীমা বাড়ানো হবে না। ২০২৭ সালের ৩১ মে-র মধ্যে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি-কে সমস্ত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।” ততদিন পর্যন্ত যারা বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন, তাঁরা কাজ চালিয়ে যাবেন।
গত বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছিল, তা বজায় রাখা হলো। অর্থাৎ, প্যানেল বাতিল হলেও যারা সম্পূর্ণ ‘যোগ্য’ বা ‘অচিহ্নিত অযোগ্য’, তারা এই অন্তর্বর্তী সময়ে স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারবেন। ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি যাওয়ার পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে রাজ্যে শিক্ষায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের কথা মাথায় রেখেই আদালত এই বাড়তি ৯ মাসের ছাড় দিয়েছে। এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়ম (Rules) অনুযায়ী সম্পূর্ণ নতুন ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই সময় দিয়েছে। রাজ্যে নবম-দশম (২৩ হাজার) এবং একাদশ-দ্বাদশ (১২ হাজার) মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার শূন্যপদ রয়েছে, যার সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ৩১ মে-র মধ্যে পুরোপুরি শেষ করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) জন্য এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা এক বিরাট পরীক্ষা। ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ তালিকায় নতুন নিয়ম কার্যকর করা এবং বিভিন্ন আইনি জট কাটানোর জন্য রাজ্য সরকার আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। আদালতের এই রায়কে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠনগুলি। তবে ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে নতুন করে প্যানেল তৈরি এবং কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শেষ না হলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
