প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
যদি এই রাজ্য সরকারের লজ্জা বোধ কিছু থাকে, তাহলে তারা অন্তত রাজ্য বাজেটে এমন ঘোষণা করতো না। একদিকে তারা মুখে বলে যে, তাদের সরকারের ঘরে নাকি টাকা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার নাকি বঞ্চনা করছে। আবার ভাতা, ভর্তুকি এই সমস্ত কিছু বাড়াতে এদের টাকার প্রয়োজন হয় না। আজ রাজ্য বাজেটে দেখা গিয়েছিল, লক্ষীর ভান্ডার থেকে শুরু করে একাধিক প্রকল্পে সামান্য কিছু ভাতা, ভর্তুকি দিয়ে ভোট নেওয়ার একটি সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এই তৃণমূল সরকার করেছে। অন্তত বিরোধীরা কটাক্ষ করে তেমনটাই বলছেন। পাশাপাশি যদি এই তৃণমূল সরকারের বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকতো, তাহলে তারা সকালবেলা সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তারপর এই ভাতা, ভর্তুকি এই সমস্ত ক্ষেত্রে টাকা না দিয়ে, ভোট না কেনার চেষ্টা করে অন্তত সরকারি কর্মচারীদের কষ্টটা বুঝে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে তারা অনেকটাই মহার্ঘ ভাতা বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু সেই কাজ না করে যে পরিমাণ মহার্ঘ ভাতা নামে মাত্র আজ তৃণমূল সরকার বৃদ্ধি করলো এবং বাজেটে ঘোষণা করলো তাতে প্রশ্ন উঠছে যে, এই সামান্য মহার্ঘভাতা তো না দিলেও পারতো তৃণমূল সরকার। তবে ভবিষ্যতে যে তাদের জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে, সেই কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিরোধীরা।
আজ সকালেই সকলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেখেছেন। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা রাজ্যকে মিটিয়ে দিতে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই এরপরেই যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ট্রেড মিলে হাঁটতে হাঁটতে বাজেট করেন, সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজের বাজেটে মহার্ঘ ভাতার পরিমাণটা একটু বেশি করে ঘোষণা করতে পারলেন না? কেন সামান্য রাজ্য বাজেটে এইরকম সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ যেদিন সামনে এলো, সেদিন মাত্র ৪ শতাংশ ঘোষণা করা হলো? এতকিছুর পরেও কেন এই নির্লজ্জ সরকারের লজ্জা বলতে কিছু নেই? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
বিরোধীদের বক্তব্য, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো ভোটকে সামনে রেখেই এই রাজ্য বাজেট করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, তিনি আর এবার ক্ষমতায় থাকবেন না। তাই শেষ মুহূর্তে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে কিছু প্রকল্পের ভাতা ভর্তুকি বাড়িয়ে দিয়ে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসবে লাভের লাভ কিছু হবে না। এই রাজ্যের সরকার চরম বিপদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবার তাদের পালন করতেই হবে যদি লজ্জা থাকতো, তাহলে আজকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘভাতাই মিটিয়ে দেওয়ার কথা এই রাজ্য সরকার ঘোষণা করতো। কিন্তু তা ঘোষণা না করে যেভাবে তারা ভাতা, ভর্তুকিতে সেই টাকা খরচ করছে, তাতে তাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না পালন করলে চরম বিপদ অপেক্ষা করছে বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
