প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত তৃণমূল জমানার অন্যতম মেগা প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’র সাইকেল বণ্টনকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির চরম বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে রাজ্য সরকারের নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পের সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে এসে এই বোমা ফাটান মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে সরাসরি নাম না করে বিগত শাসকদলের শীর্ষ পরিবারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে পঞ্জাব থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ (পার্টস) আনা হতো। তারপর এখানে এনে কেবল সেসব একত্রীকরণ বা অ্যাসেম্বল করা হতো। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আত্মীয়রাই সেই কোটি কোটি টাকার বরাত পেয়ে কাজটি করত! আমরা পুরো ব্যবস্থাটাকেই পাল্টে দিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে যন্ত্রাংশ এনে বরাত পাইয়ে দেওয়ার ফলেই বিগত দিনে স্কুলপড়ুয়াদের পাওয়া সাইকেলগুলোর কলকব্জা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। এই পারিবারিক বরাত ও সিন্ডিকেট রাজ সমূলে উপড়ে ফেলে বর্তমান বিজেপি সরকার এক বৈপ্লবিক শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বড় ঘোষণা করে বলেন, “আগামী দিনে এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা যারা পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তুলবে, সরকার তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জমি দেবে এবং সরাসরি তাদের থেকেই নতুন সাইকেল কেনা হবে।” এর ফলে অন্য কোনো রাজ্য বা পরিবারের পকেটে টাকা না গিয়ে সরাসরি গ্রাম বাংলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নতুন অনুসারী শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
বিগত জমানার সমস্ত ফাঁকফোকর বন্ধ করতে নবান্ন এবার সাইকেলের গুণগত মান এবং সড়ক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। নতুন ‘সারথি’ সাইকেলের ফ্রেম, মাডগার্ড ও অন্যান্য সমস্ত কলকব্জা ৩ স্তরে কঠোরভাবে পরীক্ষা (Screening) করার পরেই তা পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নতুন এই সাইকেলগুলিতে উন্নত মানের টায়ার এবং উপযুক্ত হেডলাইটের (আলো) সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে।নবান্নের এই কড়া অবস্থান ও সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের দিকে দুর্নীতির আঙুল তোলার পর, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র শোরগোল শুরু হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
