প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের আবহে পশ্চিমবঙ্গের সনাতনী সংস্কৃতি এবং ক্লাব সমন্বয় নিয়ে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদিত মোট দুর্গাপুজোর সংখ্যা সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ৫৮,০০০-এর গণ্ডি পার করে গিয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের কোনও জটিলতা ছাড়াই রাজ্যের আরও নতুন ৮০০টি ক্লাবকে দুর্গাপুজো করার বিশেষ প্রশাসনিক ছাড়পত্র বা অনুমোদন দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, প্রথম দফায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই বছর মোট ৫৭,৪০০টি বারোয়ারি দুর্গাপুজোকে আইনি ও প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ৮০০টি ক্লাব নতুন করে পুজো করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে নবান্নের তরফে সেই বাড়তি ৮০০টি ক্লাবকেও পুজোর আইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত মোট বারোয়ারি দুর্গাপুজোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮,২০০টি।
সাংবাদিক বৈঠকে বিগত জমানার তুলনা টেনে কড়া ভাষায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন: “বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে সর্বোচ্চ ৪৫,০০০ পুজো হতো। এবার আমাদের সরকারের আমলে তা ৫৭,৪০০ পেরিয়ে নতুন ৮০০ ক্লাবের অনুমোদনের পর ৫৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৩,০০০ নতুন পুজো যুক্ত হয়েছে! পরিবর্তন কাকে বলে, এটা তার বড় প্রমাণ। আগে এ রাজ্যে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি পেতে বা বিসর্জনের জন্য হাইকোর্টে দৌড়াতে হতো। বর্তমান প্রশাসন সেই সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা পুরোপুরি দূর করে দিয়েছে। এখন এ রাজ্যে বুক ফুলিয়ে, গর্বের সাথে সবাই নিজের ধর্ম পালন করতে পারছেন এবং ধুমধাম করে পুজো করতে পারছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন অনুমোদিত এই ৮০০টি ক্লাবসহ প্রতিটি বৈধ আবেদনকারী পুজো কমিটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান (গ্র্যান্ট) দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মহালয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে এই অনুদানের চেক বিলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে কলকাতার প্রায় ২০০টিরও বেশি বড় এবং স্বনির্ভর পুজো কমিটি সরকারি আবেদনের সাড় দিয়ে স্বেচ্ছায় এই অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই টাকা বাঁচিয়ে বাকি ৫৮ হাজার পুজো কমিটির কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করেছে নবান্ন। উৎসবের মরসুমে নতুন ৮০০ ক্লাবের এই অন্তর্ভুক্তি এবং পুজো সংখ্যার ঐতিহাসিক বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনীতি ও পর্যটন ক্ষেত্রেও এক নতুন জোয়ার আনবে বলে মনে করছে নবান্নের শীর্ষ মহল।
